
কাঠমান্ডু, ২৭ ফেব্রুয়ারি (হি.স.): নেপালে কুষ্ঠরোগ নির্মূল ঘোষণার ১৬ বছর পর ফের দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কুষ্ঠরোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে দেখা যাচ্ছে। স্বাস্থ্যক্ষেত্রে কর্মরত সংস্থা 'সাশাখোয়া হেলথ ফাউন্ডেশন'-এর এক সাম্প্রতিক সমীক্ষায় এই উদ্বেগজনক তথ্যটি উঠে এসেছে।
সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, নেপালের ১৬টি জেলায় বর্তমানে মোট ২,৪০৯ জন কুষ্ঠরোগী শনাক্ত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১৪৫ জনই শিশু। উল্লেখ্য, ২০১০ সালে প্রতি ১০ হাজার জনসংখ্যায় সংক্রমণের হার একজনের নিচে নেমে আসায় নেপালকে কুষ্ঠরোগমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছিল।
এই সমীক্ষাটি মূলত কপিলবস্তু, ধনুসা, রউতহাট, পশ্চিম নওয়ালপরাসি, পারসা, ঝাপা, কৈলালী, সিরাহা, সুনসারি, সরলাহী, বারা, মোরাং, মহোত্তরী, বাঁকে, রূপন্দেহি এবং পর্বত—এই ১৬টি জেলাকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হয়। রিপোর্ট অনুযায়ী, সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি কপিলবস্তু জেলায় (প্রতি ১০ হাজারে ২.৪ জন)। এছাড়া ধনুসায় ১.৯, রউতহাট ও পশ্চিম নওয়ালপরাসি জেলায় ১.৮, পারসায় ১.৭ এবং ঝাপা ও কৈলালী জেলায় ১.৬ শতাংশ সংক্রমণের হার নথিভুক্ত হয়েছে।
এ বিষয়ে নেপালের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা মন্ত্রকের সচিব ডা. বিকাশ দেবকোটা বলেন, ২০১০ সালে রোগ উচ্ছেদের ঘোষণা সত্ত্বেও বর্তমানে একাধিক জেলায় প্রতি ১০ হাজারে একজনের বেশি রোগী পাওয়া যাওয়া অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। তিনি জানান, কুষ্ঠরোগ নির্মূলে গতানুগতিক ‘ব্ল্যাঙ্কেট অ্যাপ্রোচ’-এর পরিবর্তে এখন ‘ইকুইটি অ্যাপ্রোচ’ গ্রহণ করা প্রয়োজন, যাতে যেখানে সমস্যা বেশি সেখানে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা যায়।
ডা. দেবকোটা আরও জানান, পরিবারের মধ্যে রোগ শনাক্তকরণে বিলম্ব হওয়ায় শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ বেশি ছড়াচ্ছে। সামাজিক কুসংস্কার ও লোকলজ্জার ভয়ে অনেকেই এখনও রোগ লুকিয়ে রাখেন, যার ফলে সংক্রমণ সমাজে ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কুষ্ঠরোগ নিয়ন্ত্রণে আনতে আর দেরি না করে কমিউনিটি স্তরে দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ ও তাৎক্ষণিক চিকিৎসাই এখন একমাত্র কার্যকর পথ।
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য