
চিত্রকুট (উত্তরপ্রদেশ), ২৮ ফেব্রুয়ারি (হি.স.): ভারতের অন্যতম সম্মানীয় নাগরিক পদক ‘পদ্মশ্রী’তে ভূষিত, প্রখ্যাত চক্ষু বিশেষজ্ঞ এবং শ্রী সদগুরু সেবা সংঘের ট্রাস্টি ও পরিচালক ডাঃ বি.কে. জৈন (বুধেন্দ্র কুমার জৈন) আর নেই। মুম্বইয়ের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার বিকেলে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর পার্থিব দেহ ইতিপূর্বেই মুম্বই থেকে চিত্রকূটে এসে পৌঁছেছে। ট্রাস্ট এবং পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রবিবার জানকীকুণ্ডে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।
ডাঃ জৈনের পুত্র তথা চক্ষু বিশেষজ্ঞ ইলেশ জৈন জানান, “শ্রী সদগুরু সেবা সংঘ ট্রাস্ট সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে ডাঃ বি.কে. জৈনের শেষকৃত্য আগামী কাল অর্থাৎ রবিবার অনুষ্ঠিত হবে।” গত বছরের (২০২৫) মে মাসে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু তাঁকে চিকিৎসা ও সমাজসেবায় অসামান্য অবদানের জন্য ‘পদ্মশ্রী’ সম্মানে ভূষিত করেছিলেন। রায়পুর অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সের সভাপতি হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন।
শ্রী সদগুরু সেবা সংঘ ট্রাস্ট এক শোকবার্তায় জানিয়েছে, “ডাঃ বি.কে. জৈন গত পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে চিত্রকূটের তপোভূমিতে যে নিষ্ঠা ও তপস্যার মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ মানুষকে দৃষ্টি ও আত্মবিশ্বাস প্রদান করেছেন, তা অবিস্মরণীয়। তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বে চিত্রকূটে ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ চক্ষু চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। তাঁর করুণা ও সেবাভাব আমাদের কাছে সর্বদা অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।”
পরিবার সূত্রে জানানো হয়েছে, ১৯৪৮ সালের ৫ ডিসেম্বর মহারাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করেন ডাঃ জৈন। ১৯৭০ সালে তিনি চিত্রকূটে আসেন এবং স্বামী রণছোডদাস মহারাজের সান্নিধ্যে থেকে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে চক্ষু চিকিৎসায় উৎসর্গ করেন। গত কয়েক মাস ধরে তিনি অসুস্থ ছিলেন এবং মুম্বইয়ের হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলছিল। শুক্রবার বিকেল ৪:২৪ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
এই মহান চিকিৎসকের প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করেছেন বান্দার সাংসদ কৃষ্ণা দেবী প্যাটেল, সাতনার সাংসদ গণেশ সিং, পদ্মশ্রী উমাশঙ্কর পাণ্ডে সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। উমাশঙ্কর পাণ্ডে উল্লেখ করেন যে, ২৭ ফেব্রুয়ারি তারিখটি চিত্রকূটের জন্য অত্যন্ত শোকের, কারণ ২০১০ সালের এই দিনেই বিশিষ্ট সমাজসেবী নানাজি দেশমুখের প্রয়াণ হয়েছিল। স্থানীয় বাসিন্দা ও সন্ত সমাজ এই ক্ষতিকে চিত্রকূটের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি