
কলকাতা, ১৬ মার্চ (হি.স.) : বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতেই রাজ্য রাজনীতিতে পারদ চড়তে শুরু করেছে। একদিকে যেমন প্রধান বিরোধী দলগুলি তাদের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে ময়দানে নেমে পড়েছে, অন্যদিকে তেমনই শাসক দল তৃণমূলের অন্দরে ভাঙন ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর রুটমার্চে সরগরম হয়ে উঠেছে বাংলার জেলাগুলি।
ভোটের মুখে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ে বড়সড় বিপর্যয়ের মুখে শাসক দল। তৃণমূল ছাড়ার ঘোষণা করলেন দীর্ঘদিনের দাপুটে নেতা আরাবুল ইসলাম। সোমবার সকালে ফুরফুরা শরিফে পীরজাদার সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার আগে তিনি ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময় থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে থেকেছি। কিন্তু দল আমাকে চিনতে পারল না।” তিনবার সাসপেনশন ও একাধিকবার মামলার জালে জড়িয়ে তিনি হতাশ হয়েই দল ছাড়ছেন বলে জানান। রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন, আরাবুল ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ)-এ যোগ দিতে পারেন, যদিও তিনি নিজে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত খোলসা করেননি।
নির্বাচন সূচি ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ১৪৪টি আসনে আংশিক প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে বিজেপি। দলের বড় চমক হিসেবে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে নন্দীগ্রামের পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্র ভবানীপুরেও প্রার্থী করা হয়েছে। দীর্ঘ জল্পনার অবসান ঘটিয়ে খড়গপুর সদর আসনেই ফেরানো হয়েছে দিলীপ ঘোষকে। এছাড়া উল্লেখযোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন শিলিগুড়িতে শঙ্কর ঘোষ, আসানসোল দক্ষিণে অগ্নিমিত্রা পাল, বরানগরে সজল ঘোষ এবং শিবপুরে রুদ্রনীল ঘোষ। জঙ্গলমহলের চারটি আসনেই প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিজেপি; নয়াগ্রামে অমিয় কিস্কু, ঝাড়গ্রামে লক্ষ্মীকান্ত সাউ, বিনপুরে চিকিৎসক প্রণত টুডু এবং গোপীবল্লভপুরে রাজেশ মাহাতো লড়বেন।
এদিকে তৃণমূলের আগেই প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে চমক দিয়েছে বামফ্রন্ট। ফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু এদিন আংশিক তালিকার নাম ঘোষণা করেন। বিশেষ নজর থাকছে উত্তরপাড়া কেন্দ্রে মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় এবং যাদবপুর কেন্দ্রে আইনজীবী তথা সাংসদ বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের ওপর। এছাড়াও দমদমে ময়ূখ বিশ্বাস, বরানগরে সায়নদীপ মিত্র এবং সিঙ্গুরে দেবাশিস চট্টোপাধ্যায়কে প্রার্থী করেছে বামেরা। গড়বেতা থেকে আসানসোল—রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ছাত্র-যুব মুখ ও অভিজ্ঞ নেতাদের ভারসাম্য বজায় রেখে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে।
স্পর্শকাতর এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর টহল
নির্বাচন ঘোষণা হতেই কলকাতা-সহ দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর রুটমার্চ শুরু হয়েছে। সোমবার সকালে ভবানীপুর ও যাদবপুরের পালবাজার এলাকায় কলকাতা পুলিশকে সাথে নিয়ে টহল দেয় বাহিনী। সাধারণ মানুষের মনোবল বাড়াতে বাহিনীর জওয়ানরা স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন। দক্ষিণ ২৪ পরগনার উপকূলীয় অঞ্চল যেমন ফ্রেজারগঞ্জ ও বিচ্ছিন্ন দ্বীপ মৌসুনিতেও কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করেছে কেন্দ্রীয় বাহিনী।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি