
ওয়াশিংটন, ১৮ মার্চ (হি.স.): পশ্চিম এশিয়ায় সাম্প্রতিক সংঘাত আরও তীব্র আকার নিয়েছে। হরমুজ প্রণালীর কাছে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিতে শক্তিশালী বোমা ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে মার্কিন সেনা।
সে দেশের সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, এই অভিযানে প্রায় ৫,০০০ পাউন্ড ওজনের ‘ডিপ পেনিট্রেটর’ বোমা ব্যবহার করা হয়েছে, যা ভূগর্ভস্থ শক্ত ঘাঁটি ধ্বংসের জন্য তৈরি। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) মঙ্গলবার (ভারতীয় সময় অনুসারে বুধবার ) জানিয়েছে, লক্ষ্যবস্তুর ঘাঁটিগুলিতে ইরানের অ্যান্টি-শিপ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন ছিল, যা আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য হুমকি বলে মনে করা হচ্ছিল।
হরমুজ প্রণালী বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের তেল এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে এই জলপথ ঘিরে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
এদিকে ইরান-ইজরায়েল সংঘাতও ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। ইজরায়েলের তেল আবিবের সংলগ্ন এলাকায় সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে বলে খবর। পাল্টা হামলায় ইরানের নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে হামলা করা হয়েছে বলে দাবি ইজরায়েলের।
এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরবও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা জোরদার করেছে। প্রিন্স সুলতান এয়ার বেসের কাছে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ করে ধ্বংস করা হয়েছে বলে সে দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই পরিস্থিতিতে বলেন, ইরানের সামরিক শক্তিকে অনেকটাই দুর্বল করা হয়েছে এবং এই সংঘাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত বাহ্যিক সহায়তার প্রয়োজন নেই।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালী ঘিরে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনা বিশ্ব অর্থনীতির উপর প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে জ্বালানির দামে। দ্রুত কূটনৈতিক সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও বৃহত্তর সংঘাতের রূপ নিতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য