রূপান্তরকামী নারী হিসেবে ভূমিকা শ্রেষ্ঠ প্রথমবারের জন্য নির্বাচিত হলেন সংসদ সদস্য
কাঠমাণ্ডু, ১৭ মার্চ (হি.স.): ভূমিকা শ্রেষ্ঠ রূপান্তরকামী নারী হিসেবে প্রথমবারের জন্য সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ন্যাশনাল ইন্ডিপেন্ডেন্ট পার্টি থেকে সামানুপাতিক তালিকা এর মাধ্যমে নির্বাচিত হয়েছেন। সোমবার সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশন তালিকা প্রক
রূপান্তরকামী নারী হিসেবে ভূমিকা শ্রেষ্ঠ প্রথমবারের জন্য নির্বাচিত হলেন সংসদ সদস্য


কাঠমাণ্ডু, ১৭ মার্চ (হি.স.): ভূমিকা শ্রেষ্ঠ রূপান্তরকামী নারী হিসেবে প্রথমবারের জন্য সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ন্যাশনাল ইন্ডিপেন্ডেন্ট পার্টি থেকে সামানুপাতিক তালিকা এর মাধ্যমে নির্বাচিত হয়েছেন। সোমবার সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশন তালিকা প্রকাশ করলে তাঁর নামও সেখানে অন্তর্ভুক্ত ছিল।

আগের নজির অনুযায়ী, ২০০৮ সালে যখন নেপাল প্রথম সংবিধানসভা নির্বাচন করেছিল, তখন সুনীল বাবু পান্ত নির্বাচিত হয়েছিলেন এশিয়ার প্রথম সমকামী সংসদ সদস্য হিসেবে। তবে সংসদে রূপান্তরকামী নারী হিসেবে ভূমিকা শ্রেষ্ঠই প্রথম।

ভূমিকা জন্মকালীন ছেলে হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং তাঁর নাম ছিল কৈলাশ শ্রেষ্ঠা। পরবর্তীতে নিজের অনুভূতির সঙ্গে মিলিয়ে তিনি নাম ও রূপ পরিবর্তন করেন এবং ভূমিকা নামে পরিচিত হন। তিনি ১৯৮৭ সালে কাঠমাণ্ডুর নাইকাপ এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন। পরিবার, স্কুল ও সমাজের বৈষম্য ও অবহেলার কারণে তিনি নবম শ্রেণির পর পড়াশোনা বন্ধ করেন।

২০০৫ সালে তিনি কাঠমাণ্ডু জেলা প্রশাসন অফিস থেকে ‘কৈলাশ শ্রেষ্ঠা’ নামে নাগরিকত্ব পান, যেখানে লিঙ্গ হিসাবে ‘অন্যান্য’ উল্লেখ করা হয়। নেপালে তৃতীয় লিঙ্গকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়ার পর নাগরিকত্বে ‘অন্যান্য’ লিঙ্গ উল্লেখের ব্যবস্থা শুরু হয়। পরে মহিলা পরিচয় স্বীকারের জন্য নাগরিকত্ব সংশোধনের আবেদন করেন এবং ৫ এপ্রিল ২০২১ তারিখে মন্ত্রিপরিষদে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁর নাগরিকত্বে ‘ভূমিকা শ্রেষ্ঠ’ নাম ও ‘মহিলা’ লিঙ্গ স্থায়ী হয়।

ভূমিকা দীর্ঘদিন ধরে ব্লু ডায়মন্ড সোসাইটি-এর সঙ্গে যুক্ত থেকে লিঙ্গ ও যৌন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকারের জন্য কাজ করে আসছেন। সংস্থার সঙ্গে সক্রিয় থাকা অবস্থায় তিনি খোলাখুলিভাবে নিজের পরিচয় গ্রহণ করেন। তাঁর এই সক্রিয়তার কারণে একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা তাঁকে লিঙ্গ সমতার ক্ষেত্রে বিশ্বের শীর্ষ ১০০ যুবাদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছিল।

ভূমিকা তাঁর জীবন অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে ‘ভূমিকা: তেসরো লিঙ্গিকো আত্মকা’ নামে একটি বই প্রকাশ করেছেন, যা নেপালি ভাষায়, যেখানে পরিচয়, সংগ্রাম ও সামাজিক স্বীকৃতির কাহিনী উপস্থাপন করা হয়েছে।

এখন নীতি-নির্ধারণ পর্যায়ে পৌঁছানোর পর তিনি লিঙ্গ ও যৌন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিষয়গুলো নীতি ও আইনগতভাবে সমাধানের চেষ্টা করবেন। তাঁর মতে নেপালের সংবিধানের ধারা ১২, ১৮ ও ৪২ এই সম্প্রদায়ের অধিকার স্বীকৃতি দেয়, তবে পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি। তিনি বলেন, “সংবিধানে লেখা অধিকার যথেষ্ট নয়, তা বাস্তবায়নের জন্য নীতি ও ব্যবস্থা থাকা জরুরি।”

শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান এবং সরকারি বিভিন্ন সংস্থায় এই সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা তাঁর অগ্রাধিকার। ভূমিকা শুধুমাত্র লিঙ্গ ও যৌন সংখ্যালঘুদের জন্য নয়; তিনি মধেসী, বিশেষ সম্প্রদায় , জনজাতি , বিশেষভাবে সক্ষম ও অন্যান্য সম্প্রদায়েরও বিষয়গুলো তুলে ধরবেন। তিনি বলেন, “আমি কেবল একটি সম্প্রদায়ের নয়, বিভিন্ন পরিচয়ের মধ্যে থাকা সকল লিঙ্গ ও যৌন সংখ্যালঘুর জন্য কাজ করব।”

ভূমিকা আগে নেপালি কংগ্রেস এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তবে পরবর্তীতে সমন্বিত প্রতিনিধি ও পরিবর্তনের এজেন্ডা কে অগ্রাধিকার দিয়ে ন্যাশনাল ইন্ডিপেন্ডেন্ট পার্টি থেকে রাজনৈতিক যাত্রা চালিয়ে যাচ্ছেন।

দীর্ঘ সংগ্রাম, পরিচয় লড়াই এবং সামাজিক আন্দোলনের পর ভূমিকা শ্রেষ্ঠ এখন নেপালের লিঙ্গ ও যৌন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একটি শক্তিশালী কণ্ঠস্বর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হলেন।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande