
সোনারপুর, ১৯ মার্চ (হি. স.) : সোনারপুর দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী লাভলী মৈত্র আসন্ন ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে জোরকদমে প্রচার শুরু করেছেন। মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক ও উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি নিয়েই তিনি আবারও ভোটের ময়দানে নেমেছেন। নিজের বক্তব্যে লাভলী মৈত্র স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, মানুষের পাশে থাকা তাঁর রাজনীতির মূল লক্ষ্য এবং সেই পথেই তিনি অটল রয়েছেন।
তিনি বলেন, “মানুষের সঙ্গে ছিলাম, মানুষের পাশে ছিলাম, এখনও আছি। এই নির্বাচনেও আমরা লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত। আগেরবার মানুষের যে ভালোবাসা ও সমর্থন পেয়েছিলাম, এবার তার থেকেও বেশি আশীর্বাদ পাব বলে আমরা আশাবাদী।” তাঁর এই বক্তব্যে স্পষ্ট, আগের জয়ের স্মৃতি ও মানুষের সমর্থন তাঁকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে।
লাভলী মৈত্র আরও জানান, সোনারপুর দক্ষিণকে একটি মডেল বিধানসভা হিসেবে গড়ে তোলাই তাঁর মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, “যেসব কাজ এখনও অসম্পূর্ণ রয়েছে, সেগুলো দ্রুত শেষ করাই আমাদের অগ্রাধিকার। পাশাপাশি নতুন নতুন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের মাধ্যমে এলাকাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।” রাস্তা, পানীয় জল, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
প্রতিপক্ষকে নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামাতে নারাজ তৃণমূল প্রার্থী। তাঁর কথায়, “আমরা প্রতিপক্ষ নিয়ে ভাবছি না। আমরা শুধুই উন্নয়নের সঙ্গেই আছি। মানুষ উন্নয়ন চায়, আর সেই উন্নয়নের বার্তা নিয়েই আমরা মানুষের কাছে যাচ্ছি।” দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং সরকারের কাজের উপর পূর্ণ আস্থা রেখেই তিনি প্রচার চালাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, “আমাদের নেত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী সারা বছর মানুষের জন্য কাজ করেন। একের পর এক জনকল্যাণমূলক প্রকল্প চালু করেছেন, যার সুফল মানুষ সরাসরি পাচ্ছেন। সেই উন্নয়নই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।” রাজ্য সরকারের প্রকল্পগুলিকে হাতিয়ার করেই তিনি ভোটের লড়াইয়ে নামছেন বলে জানান।
প্রচারের শুরুতেই ধর্মীয় আচার মেনে চলার কথাও উল্লেখ করেছেন লাভলী মৈত্র। তিনি বলেন, “মায়ের আশীর্বাদ নিয়েই আমরা সব কাজ শুরু করি। আগেরবারও আশীর্বাদ নিয়েছিলাম, এবারও নিয়েছি। এলাকার মানুষের সুখ-সমৃদ্ধিই আমার একমাত্র কামনা।”
সবশেষে তিনি ভোটারদের উদ্দেশ্যে আবেদন জানিয়ে বলেন, “মানুষ যেন ভেবে-চিন্তে সঠিক সিদ্ধান্ত নেন—কাকে রাখলে বাংলা ভালো থাকবে, কে বাংলাকে সুরক্ষিত রাখতে পারবে। আমরা বিশ্বাস করি, মানুষ উন্নয়নের পক্ষেই রায় দেবেন এবং আমাদের আশীর্বাদ করবেন, যাতে আগামী দিনে আরও বেশি করে মানুষের পাশে থাকতে পারি।”
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / পার্সতি সাহা