
সোনারপুর, ২৩ মার্চ ( হি. স.) : সোনারপুরে বিধানসভা নির্বাচনের আগে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে বিজেপির নতুন নির্বাচনী কার্যালয় বা ‘ওয়ার রুম’-এর উদ্বোধন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ল এলাকায়। সোমবার সোনারপুর দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী রূপা গঙ্গোপাধ্যায় ফিতে কেটে এই কার্যালয়ের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আসন্ন নির্বাচনের যাবতীয় প্রচার কৌশল, সাংগঠনিক বৈঠক এবং নির্বাচনী রণনীতি এবার এই কার্যালয় থেকেই পরিচালিত হবে।
উদ্বোধনের পর আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে বিজেপি প্রার্থী রাজ্যের শাসকদল ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন। তিনি দাবি করেন, রাজ্যজুড়ে বিজেপি কর্মীদের ওপর বিনা কারণে হামলা, মারধর এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটছে। এই পরিস্থিতির মোকাবিলায় দল বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজেপির পক্ষ থেকেও বিশেষ বাহিনী রাখা হয়েছে এবং যেকোনো রাজনৈতিক হিংসার ঘটনার কড়া জবাব দেওয়া হবে।
বিগত নির্বাচনগুলিতে ছাপ্পা ভোট, রিগিং এবং ভোট গণনা নিয়ে ওঠা বিতর্কের প্রসঙ্গ টেনে রূপা গঙ্গোপাধ্যায় অভিযোগ করেন যে, অতীতে বিজেপির জয়ী প্রার্থীদের শংসাপত্র পর্যন্ত কেড়ে নেওয়ার মতো নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে। তবে এবার সেই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হবে না বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য, ভোটার তালিকা সংশোধনের ফলে বহু ভুয়ো ভোটারের নাম বাদ পড়েছে, যার ফলে ছাপ্পা মারার সুযোগ অনেকাংশেই কমবে।
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সরব হয়ে বিজেপি প্রার্থী বলেন, কোন থানার ওসি বা জেলার পুলিশ সুপার কী ভূমিকা নিয়েছেন, সে বিষয়ে দলের কাছে পর্যাপ্ত তথ্য রয়েছে। তিনি দাবি করেন, প্রশাসনের মধ্যে যাঁরা পক্ষপাতদুষ্ট ছিলেন তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে। প্রশাসনের একাংশকে বিঁধে তাঁর কড়া হুঁশিয়ারি, “একটা ভুল করলেই পরের দিন নির্বাসন। এতদিন যাঁরা সরকারের হাতের পুতুল ছিলেন, তাঁদের অবস্থান এখন বদলে গিয়েছে।”
নির্বাচনের আগে এই নতুন নির্বাচনী কার্যালয় ঘিরে বিজেপির সাংগঠনিক সক্রিয়তা যে আরও বৃদ্ধি পেতে চলেছে, রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের এই আক্রমণাত্মক মেজাজ থেকেই তা স্পষ্ট বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
হিন্দুস্থান সমাচার / পার্সতি সাহা