
দুর্গাপুর, ২৩ মার্চ(হি. স.) : “এবারের লড়াই মা-মাটি-মানুষ বনাম তৃণমূল কংগ্রেসের। মানুষ ২০১৯ সাল থেকেই ‘বাইনারি’ তৈরি করে দিয়েছে যে, বিজেপিই একমাত্র তৃণমূলকে হারাতে পারে। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে তৃণমূল কংগ্রেস নামক এই ভাইরাস থেকে মুক্তি পেতে চায়।” সোমবার দুর্গাপুরে দলের রাঢ়বঙ্গ জোনের নির্বাচনী প্রস্তুতি বৈঠকে এসে এভাবেই শাসকদলকে তীব্র আক্রমণ শানালেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হয়ে যাওয়ার পর সমস্ত রাজনৈতিক দলই এখন জোরকদমে প্রচারে নেমেছে। এই আবহে সোমবার দুর্গাপুরের বামুনাড়ার একটি হোটেলে বিজেপির রাঢ়বঙ্গ জোনের নির্বাচনী প্রস্তুতি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে রাঢ়বঙ্গ জোনের ৫৬টি বিধানসভা আসনের প্রার্থী, ইনচার্জ ও আহ্বায়করা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও ছিলেন বিজেপির রাজ্য পর্যবেক্ষক ভুপেন্দ্র যাদব, সুনীল বনসাল, সতীশ ধন্দ এবং সাংসদ সৌমিত্র খাঁ ও জ্যোতির্ময় মাহাতো। মূলত নির্বাচনের রণকৌশল নির্ধারণই ছিল এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য।
এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী এবং রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকার সমালোচনা করেন শমীক ভট্টাচার্য। রাজ্যে পুলিশ ও আমলা বদলি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর চিঠি প্রসঙ্গে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর কাজ এখন ক্রমশ কমে আসছে।” ভবানীপুরে ভোটের দিন লোডশেডিংয়ের আশঙ্কা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করে তাঁর বক্তব্য, “নন্দীগ্রামে পারলেন না কেন? সেবার তো ভবানীপুর ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন। এবার তৃণমূল প্রার্থী নন্দীগ্রামে লিড দিয়ে দেখাক।” কেন্দ্রীয় বাহিনীর ব্যবহার প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, ২০১১ সালের থেকেও এবার অনেক বেশি আঁটসাঁট নির্বাচন হতে চলেছে।
আরজি কর হাসপাতালে লিফট বিভ্রাটের জেরে রোগীর মৃত্যু প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কঙ্কালসার চেহারা তুলে ধরে তিনি প্রশ্ন করেন, “লিফটটা কে বসাল? কোন ঠিকাদার সংস্থা বরাত পেয়েছিল? তৃণমূল জমানায় স্বাস্থ্য ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। জলে-স্থলে-অন্তরীক্ষে সর্বত্র ধ্বংসলীলা চালিয়েছে তারা। তৃণমূল ক্ষমতায় থাকলে এমন ঘটনা ঘটতেই থাকবে।”
ভোটার তালিকা সংশোধন (এস আই আর) প্রসঙ্গেও নিজের অনড় অবস্থানের কথা জানান রাজ্য বিজেপি সভাপতি। তিনি বলেন, “আমরা যেসব ফর্ম-৭ জমা দিয়েছিলাম, তার ওপর যথাযথ শুনানি করতে হবে। পুলিশ বেআইনিভাবে ফর্ম-৭ কেড়ে নিয়েছিল, তৃণমূল কর্মীরা সেগুলি জ্বালিয়ে দিয়েছে। এমনকি বিএলও ও এআরও-দের কাছে জমা দেওয়া ফর্মগুলিও সিস্টেমে ঠিকঠাক আপলোড করা হয়নি। এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না করে নির্বাচন করা যাবে না। মাঝপথে এসআইআর বন্ধ করে নির্বাচন করা চলবে না।”
হিন্দুস্থান সমাচার / জয়দেব লাহা