
কুমারঘাট (ত্রিপুরা), ২৩ মার্চ (হি.স.) : ত্রিপুরা ট্রাইবাল এরিয়াস অটোনমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল (টিটিএএডিসি) নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজ্যের পাহাড়ি অঞ্চলে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। মনোনয়ন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়ায় অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলির তুলনায় এগিয়ে থেকে কুমারঘাট মহকুমায় করমছড়া ও মাছমারা কেন্দ্রের জন্য মনোনয়ন জমা দিল বামফ্রন্ট মনোনীত দুই প্রার্থী।
সোমবার লাল পতাকার ঢেউ এবং স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে কুমারঘাট শহর। মিছিল করে পরিক্রমা শেষে রিটার্নিং অফিসারের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন সিপিআই(এম) প্রার্থী সাধন কুমার চাকমা এবং ফরোয়ার্ড ব্লকের প্রার্থী বাবুল দেবনাথ।
উল্লেখ্য, আগামী ১২ এপ্রিল রাজ্যে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে টিটিএএডিসি নির্বাচন। এই নির্বাচনকে ঘিরে ইতিমধ্যেই শাসক ও বিরোধী শিবির মাঠে নেমে পড়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত বিজেপি বা তিপ্রামথা তাদের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেনি। এরই মধ্যে প্রার্থী ঘোষণা ও মনোনয়ন জমা দিয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে এগিয়ে থাকার বার্তা দিতে চাইছে বামফ্রন্ট।
ঊনকোটি জেলার কুমারঘাট মহকুমার ২-মাছমারা এবং ৪- করমছড়া আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৭৭ হাজার ৭২৩। করমছড়া কেন্দ্রে সিপিআই(এম)-এর হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সাধন কুমার চাকমা এবং মাছমারা কেন্দ্রে ফরোয়ার্ড ব্লকের প্রার্থী বাবুল দেবনাথ।
মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর সাধন কুমার চাকমা দাবি করেন, রাজ্যের বর্তমান সরকার মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। কাজ, খাদ্য, পানীয় জল, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং বিদ্যুৎ—প্রায় সব ক্ষেত্রেই সংকট তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর। তাই এই নির্বাচনের মাধ্যমে পরিবর্তন আনতে সাধারণ মানুষ প্রস্তুত বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
অন্যদিকে, বাবুল দেবনাথও নিজের জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। তিনি বলেন, অতীতেও পাহাড়ি এলাকায় মানুষের পাশে থেকে কাজ করেছে বামফ্রন্ট এবং এবারও জয়ের মাধ্যমে সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হবে।
এদিন কুমারঘাটের মহকুমা শাসক তথা রিটার্নিং অফিসার এনএস চাকমা এবং অতিরিক্ত মহকুমা শাসক ডেভিড হালামের কাছে পৃথকভাবে মনোনয়নপত্র জমা দেন দুই প্রার্থী। রিটার্নিং অফিসার জানান, সংশ্লিষ্ট দুই কেন্দ্রের জন্য বামফ্রন্টের পক্ষ থেকে মোট আটটি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে এবং পুরো প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয়েছে।
মনোনয়ন জমাকে কেন্দ্র করে এদিন কার্যত শক্তির মহড়া দেয় বামফ্রন্ট। মিছিলে নেতৃত্ব দেন দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নরেশ জমাতিয়া, জেলা সম্পাদক কৃষ্ণেন্দু চৌধুরী, মহকুমা সম্পাদক সমীরণ মালাকারসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে কুমারঘাট শহরে জোরদার করা হয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা। কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে মোটরস্ট্যান্ড এলাকায় আগেই ব্যারিকেড বসিয়ে মিছিল নিয়ন্ত্রণ করে পুলিশ। পরে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে প্রার্থীসহ প্রতিনিধিদলকে রিটার্নিং অফিসারের দফতরে নিয়ে যাওয়া হয়।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ