
চন্দ্রকোণা, ৩১ মার্চ (হি.স.): ভোটার তালিকায় কারচুপি এবং ভিনরাজ্যের বাসিন্দাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগে ফের সুর চড়ালেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোণা স্থিত ক্ষীরপাইয়ের চরকডাঙ্গা মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভা থেকে তিনি কেন্দ্রীয় সরকার ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, বাংলার বাইরের লোকেদের নাম পরিকল্পিতভাবে এরাজ্যের ভোটার তালিকায় ঢোকানো হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বিহার, উত্তর প্রদেশ, হরিয়ানা এবং রাজস্থানের বাসিন্দাদের নাম বাংলার তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে, এরাজ্যের বহু প্রকৃত ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যা এখনও সংশোধন করা হয়নি। এই বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি ইতিমত্যেই দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি দিয়েছেন বলেও জানান।
জনসভা থেকে বিজেপি-র ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “বাংলার মানুষকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করে জোর করে ক্ষমতা দখল করতে চাইছে তারা।” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও জানান, সোমবারই নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রায় ৩০ হাজার এমন নামের তালিকা জমা দেওয়া হয়েছে, যাঁরা আদতে এরাজ্যের বাসিন্দা নন বলে তাঁর দাবি।
ভোটার তালিকার ‘বিশেষ সংক্ষিপ্ত পুনরীক্ষণ’ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি একে সাধারণ মানুষের অধিকার হরণের চেষ্টা বলে অভিহিত করেন। এই মামলার প্রেক্ষিতে তিনি সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানিয়েছিলেন বলেও মনে করিয়ে দেন। সাধারণ মানুষের প্রতি তাঁর আবেদন, বুথ স্তরে যেন প্রত্যেকে সতর্ক থাকেন এবং তালিকায় কোনও অসঙ্গতি দেখলে সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ জানান। যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁদের আইনি লড়াইয়ের পরামর্শ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দেন যে, সরকার তাঁদের জন্য নিখরচায় আইনজীবীর ব্যবস্থা করবে।
এদিনের সভা থেকে আলু চাষিদের সমস্যার কথাও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে। আলুর সঠিক দাম না পাওয়ার অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, ফসল নষ্ট হলে সরকার বিমার মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করবে। এপ্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আলুর উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ চাইলে তৃণমূলকেই ভোট দিন।” ভাষণের শেষে তিনি বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস বর্তমানে সমুদ্রের মতো শক্তিশালী, কোনও বিরোধী শক্তি দলের ক্ষতি করতে পারবে না।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি