
কলকাতা, ৩১ মার্চ
(হি.স.): পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় ভিনরাজ্যের বাসিন্দাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার
চেষ্টার অভিযোগ তুলে এবার সরাসরি জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হলেন তৃণমূল
কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার নয়াদিল্লির নির্বাচন সদনে মুখ্য
নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে উদ্দেশ্য করে তিন পাতার একটি দীর্ঘ চিঠি
পাঠিয়েছেন তিনি। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেছেন, এ রাজ্যের
বাসিন্দাদের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করতে এক গভীর ও ধারাবাহিক ষড়যন্ত্র চালানো
হচ্ছে।
চিঠিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উল্লেখ করেছেন যে,
জাতীয়
নির্বাচন কমিশন একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, কিন্তু বর্তমানে
পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় যে ঘটনাগুলি ঘটছে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
কলকাতায় মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে বিজেপির এজেন্টরা হাতেনাতে ধরা পড়েছে
বলে দাবি করে তিনি জানান, সেখানে প্রায় হাজারের বেশি 'ফর্ম-৬'
(নতুন
ভোটার হওয়ার আবেদনপত্র) জমা দেওয়া হয়েছে। তৃণমূল নেত্রীর অভিযোগ, এই
আবেদনকারীরা পশ্চিমবঙ্গের স্থানীয় বাসিন্দা নন এবং এ রাজ্যের ভোটার তালিকায় তাঁদের
কোনও স্থান নেই। এই পদ্ধতিকে তিনি ‘ভোটার হাইজ্যাক’-এর সুপরিকল্পিত প্রয়াস বলে
অভিহিত করেছেন এবং দাবি করেছেন যে, বিজেপি ইতিপূর্বে মহারাষ্ট্র ও
দিল্লিতেও এই একই ‘নোংরা খেলা’ খেলেছে।
নিজের এক্স হ্যান্ডেলেও এই অভিযোগ তুলে ধরে
মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন: পশ্চিমবঙ্গের মানুষের গণতান্ত্রিক
অধিকারকে লক্ষ্য করে এক গভীর চক্রান্ত রচিত হচ্ছে—এই মর্মে আমি প্রধান নির্বাচন
কমিশনারের কাছে লিখিতভাবে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছি। বিজেপির এজেন্টরা হাতেনাতে
ধরা পড়েছে, যারা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের
দপ্তরে হাজার হাজার ভুয়ো ফর্ম-৬ জমা দিয়ে বহিরাগত ও অ-বাসিন্দাদের ভোটার
তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এটি আসলে ভোটার হাইজ্যাকের এক
সুপরিকল্পিত প্রয়াস।
চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেছেন যে,
একদিকে
যখন প্রায় ৬০ লক্ষ প্রকৃত ভোটারের আবেদন ঝুলে রয়েছে, তখন নির্বাচন
কমিশন অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে এই বিপুল সংখ্যক ভুয়া আবেদন দ্রুত গ্রহণ করার
উদ্যোগ নিচ্ছে। তাঁর দাবি, ত্রুটিপূর্ণ এসআইআরপ্রক্রিয়ার জেরে রাজ্যে ইতিমধ্যেই ২০০-র বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
এই পরিস্থিতিকে তিনি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরিপন্থী এবং অবাধ ও সুষ্ঠু
নির্বাচনের অন্তরায় বলে উল্লেখ করেছেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / শুভদ্যুতি দত্ত