
রায়দিঘি, ৩১ মার্চ (হি.স.): ভোট বড় বালাই। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার রায়দিঘির আয়লা বাঁধে এখন নির্বাচনী প্রচারের পারদ তুঙ্গে। মঙ্গলবার মুনি নদীর তীরে আয়লা বাঁধ সংলগ্ন কঙ্কনদীঘি পঞ্চায়েত এলাকায় আদিবাসী পাড়ায় একটি মূর্তিতে মালা দিয়ে এবং প্রণাম জানিয়ে নিজের প্রচার অভিযান শুরু করলেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী তাপস মণ্ডল। সুন্দরবনের প্রত্যন্ত প্রান্ত থেকে শুরু করে শহর ও গ্রাম— সর্বত্রই এখন নির্বাচনের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। এদিন দড়িখেয়া আদিবাসী পাড়া-সহ কঙ্কনদীঘি ও নন্দকুমারপুর পঞ্চায়েত এলাকার বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে নিবিড় জনসংযোগ সারেন তিনি। কখনও টোটোয় চেপে আবার কখনও পায়ে হেঁটে মুনি নদীর পাড় বরাবর গ্রামবাসীদের দরজায় পৌঁছে যান এই নতুন তৃণমূল প্রার্থী।
ডায়মন্ড হারবার মহকুমার অন্তর্গত সাতটি বিধানসভা কেন্দ্র— ফলতা, ডায়মন্ড হারবার, মগরাহাট (পূর্ব), মগরাহাট (পশ্চিম), কুলপি, মন্দিরবাজার এবং রায়দিঘিতে এবার নির্বাচনী লড়াই অত্যন্ত জমে উঠেছে। তৃণমূল কংগ্রেস এবার বেশ কিছু কেন্দ্রে প্রার্থী বদল করেছে, যার মধ্যে রায়দিঘি অন্যতম। এখানে প্রাক্তন বিধায়ক অলক জলদাতার পরিবর্তে শিক্ষক তথা নাট্যকর্মী তাপস মণ্ডলকে প্রার্থী হিসেবে নিয়ে আসা হয়েছে। প্রচারের ময়দানে নেমে তাপস মণ্ডল উন্নয়নের একগুচ্ছ আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি জানান, নির্বাচনে জয়ী হতে পারলে তাঁর প্রথম এবং প্রধান কাজ হবে এলাকার রাস্তার উন্নয়ন ঘটানো। তাঁর মতে, ২০১১ সালের পর অনেক কাজ হলেও যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত করার অবকাশ রয়েছে। এর পাশাপাশি রায়দিঘি হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবার মানোন্নয়নের দিকেও বিশেষ নজর দেওয়ার কথা বলেন তিনি।
সুন্দরবনের এই বিস্তীর্ণ অঞ্চল একসময় আয়লা ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গিয়েছিল। সেই সময় থেকেই নদীবাঁধ সংস্কার এবং সবুজায়নের কাজ নিরন্তর চলছে, যার সাক্ষী হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে বাঁধের ধারের সারি সারি ঝাউগাছ। প্রচারের ফাঁকে তাপস মণ্ডল দাবি করেন যে, রাজ্য সরকারের জনকল্যাণমুখী প্রকল্পগুলি বেশির ভাগ মানুষের কাছেই পৌঁছে গিয়েছে। তবে এই কেন্দ্রে লড়াই কেবল একতরফা নয়; বিরোধীরাও সমানে পাল্লা দিচ্ছে। বিজেপি প্রার্থী পলাশ রানা এবং সিপিএম প্রার্থী সাম্য গাঙ্গুলিও সমান তালে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। সব মিলিয়ে ভোটের মুখে রায়দিঘির রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / শুভদ্যুতি দত্ত