
আগরতলা, ৩১ মার্চ (হি.স.) : ত্রিপুরার স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় এক উল্লেখযোগ্য সাফল্যের নজির গড়ল জিবিপি হাসপাতাল। বিনামূল্যে ব্যয়বহুল কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে নতুন জীবন পেল চারটি শিশু। সফল অস্ত্রোপচারের পর তারা এখন শুনতে এবং কথা বলতে পারছে—যা তাদের ও পরিবারের কাছে এক অভাবনীয় আনন্দের মুহূর্ত।
মঙ্গলবার সাংবাদিক সম্মেলনে এই তথ্য জানান জিবিপি হাসপাতালের নাক-কান-গলা (ইএনটি) বিভাগের প্রধান চিকিৎসক বিপ্লব নাথ। তিনি জানান, গত ২০ ও ২১ মার্চ—দু’দিনে মোট চারজন শিশুর জটিল কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট সার্জারি সফলভাবে সম্পন্ন হয়। জন্মগতভাবে শ্রবণ ও বাকশক্তিহীন এই শিশুদের বয়স দুই থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে।
ডাঃ নাথ বলেন, “এই শিশুরা জন্মের পর থেকেই কোনও শব্দ শুনতে পেত না। ফলে তারা কথা বলতেও পারত না। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাদের কানে কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট নামের একটি বিশেষ যন্ত্র বসানো হয়েছে। এর ফলে এখন তারা শব্দ শুনতে পারছে এবং ধীরে ধীরে কথা বলাও শুরু করেছে।”
তিনি আরও জানান, এই ধরনের অস্ত্রোপচার অত্যন্ত ব্যয়বহুল হলেও রাজ্য সরকার এবং জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের সহযোগিতায় জিবিপি হাসপাতালে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এই পরিষেবা প্রদান করা হয়েছে। অপারেশনের সমস্ত খরচ বহন করেছে রাজ্য সরকার, আর কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট যন্ত্র সরবরাহ করেছে জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন।
অস্ত্রোপচারের পরবর্তী পর্যায়ে শিশুদের ভাষা ও শ্রবণ দক্ষতা উন্নয়নের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। হাসপাতালের ইএনটি বিভাগের তত্ত্বাবধানে তাদের কথা বলা শেখানো হবে বলে জানান তিনি।
এই সাফল্যে খুশি শিশুদের অভিভাবকরাও। তাঁরা বলেন, “আমাদের সন্তানদের জন্য এটি নতুন জীবনের শুরু। এত ব্যয়বহুল চিকিৎসা বিনামূল্যে পাওয়ায় আমরা অত্যন্ত কৃতজ্ঞ।” জিবিপি হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তাঁরা।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মত কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট করলে শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশুদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব, যা ভবিষ্যতে তাদের পড়াশোনা ও কর্মজীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ