
কলকাতা, ২১ এপ্রিল (হি. স.) :
প্রথম দফার ভোটগ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে রাজ্যজুড়ে নিরাপত্তা ও নজরদারি তুঙ্গে তুলল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত পাওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নির্বাচনী আচরণবিধি ভাঙার দায়ে এবং অবৈধ লেনদেনের অভিযোগে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ, মদ এবং সোনা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। কমিশনের এই সাঁড়াশি অভিযানে রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
নির্বাচন কমিশনের দেওয়া সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত সামগ্রিকভাবে উদ্ধার হয়েছে:
নগদ অর্থ: মোট ২,৮৫৪.৯২ লক্ষ টাকা।
মদ: ১,৪৭৭.৫০ লিটার (যার বাজারমূল্য প্রায় ৭.৫৩ লক্ষ টাকা)।
অন্যান্য নগদ উদ্ধার: পৃথকভাবে ১৮৬.২৩ লক্ষ টাকা।
মঙ্গলবার বিকেলেও কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তে তল্লাশি চালিয়ে বড় সাফল্য পেয়েছেন কমিশনের আধিকারিকরা। বড়তলা থানা এলাকায় ১৬৫ জোড়াসাঁকো বিধানসভা কেন্দ্রে নাকা চেকিং চলাকালীন এসএসটি-৪ দলের হাতে ধরা পড়ে নগদ ৪ লক্ষ টাকা। উপযুক্ত নথি না থাকায় ওই টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। একই দিনে বেলেঘাটা বিধানসভা কেন্দ্রের সিআইটি রোডে স্টেট ব্যাঙ্কের সামনে তল্লাশি চালিয়ে এফএস (FS) টিম ১.৩৩৫ লক্ষ টাকা জব্দ করে।
অর্থের পাশাপাশি সোনা উদ্ধারের ঘটনাও নজর কেড়েছে। গত সোমবার রাতে জোড়াসাঁকো বিধানসভা কেন্দ্র এলাকায় এসএসটি-৩ দলের অভিযানে ৬১৫.৮৫ গ্রাম সোনা (নেট ওজন) উদ্ধার করা হয়। মঙ্গলবার ভোরে এই বিপুল পরিমাণ সোনা আয়কর দপ্তরের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। উদ্ধার হওয়া এই সোনার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৯২.১৯ লক্ষ টাকা।
কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোট অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করতে এই ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে। বিশেষ করে নাকা চেকিং এবং সন্দেহভাজন গতিবিধির ওপর ২৪ ঘণ্টা নজর রাখা হচ্ছে যাতে টাকা বা অন্য কোনও উপঢৌকনের মাধ্যমে ভোটারদের প্রভাবিত না করা যায়। প্রথম দফার ভোটের আগে কমিশনের এই সক্রিয়তা সাধারণ ভোটারদের আশ্বস্ত করলেও অস্বস্তিতে রেখেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক শিবিরের একাংশকে।
হিন্দুস্থান সমাচার / শুভদ্যুতি দত্ত