



কলকাতা, ৩ এপ্রিল (হি.স.) : ‘বন্দে মাতরম্’-এর ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে কলকাতার জাতীয় গ্রন্থাগারে আয়োজিত হল এক বিশেষ অনুষ্ঠান। শুক্রবার অনুষ্ঠানের শুরুতেই সমবেত কণ্ঠে গাওয়া হয় ‘বন্দে মাতরম্’, যার মধ্য দিয়েই সূচনা হয় গোটা অনুষ্ঠানের এবং প্রথম মুহূর্ত থেকেই প্রেক্ষাগৃহ জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে দেশাত্মবোধের আবহ।
অনুষ্ঠানের সূচনায় বক্তব্য রাখেন ছত্তিশগড়ের উপ-মুখ্যমন্ত্রী বিজয় শর্মা। তিনি তাঁর বক্তব্যে ‘বন্দে মাতরম্’-এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও বর্তমান সময়ে এর প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরেন।
এরপর বক্তব্য রাখেন কলকাতার অরবিন্দ ভবনের ডিরেক্টর বিশ্বজিৎ গাঙ্গুলি। তিনি বলেন, এই ধরনের অনুষ্ঠান নতুন প্রজন্মকে দেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতির সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত করতে সহায়তা করে। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আরও একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি, যারা দেশপ্রেম ও স্বাধীনতা সংগ্রামীদের অবদান স্মরণ করেন।
এদিনের অনুষ্ঠানের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল বিভিন্ন স্বাধীনতা সংগ্রামীর পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতি। তাঁদের অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেন যে, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম স্বাধীনতা সংগ্রামীদের ত্যাগ ও অবদান কতটা মনে রাখবে এবং তাঁদের ইতিহাসকে কতটা গুরুত্ব দেবে। এই প্রেক্ষিতে তাঁরা নতুন প্রজন্মের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির উপর জোর দেন।
সাংস্কৃতিক পর্বে পরিবেশিত হয় একাধিক দেশাত্মবোধক গান। ‘মুক্তির মন্দির সোপানতলে’ গানটি পরিবেশন করেন দিগ্বিজয় চৌধুরী, যা দর্শকদের মধ্যে বিশেষ সাড়া ফেলে। পাশাপাশি অন্যান্য সংগীত পরিবেশনার মাধ্যমেও দেশের প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা তুলে ধরা হয়।
সমগ্র অনুষ্ঠান জুড়ে দেশপ্রেমের আবহ স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে। স্বাধীনতা সংগ্রামীদের স্মরণ এবং ‘বন্দে মাতরম্’-এর মতো ঐতিহাসিক গানকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান নতুন প্রজন্মের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পৌঁছে দেয়—দেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে জানা ও সম্মান করা।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সুনন্দা দাস