( রাউন্ড আপ) ভবানীপুরে শুভেন্দুর মনোনয়ন : শাহের উপস্থিতিতে উত্তাল হাজরা, তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষে রণক্ষেত্র কালীঘাট
কলকাতা, ২ এপ্রিল (হি.স.): পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের সবথেকে চর্চিত কেন্দ্র ভবানীপুরে বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র দাখিল করলেন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) হেভিওয়েট প্রার্থী তথা রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত
শুভেন্দু অধিকারী


কলকাতা, ২ এপ্রিল (হি.স.): পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের সবথেকে চর্চিত কেন্দ্র ভবানীপুরে বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র দাখিল করলেন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) হেভিওয়েট প্রার্থী তথা রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে এই মনোনয়ন পর্বকে কেন্দ্র করে দিনভর উত্তাল রইল দক্ষিণ কলকাতা। হাজরা মোড় থেকে কালীঘাট পর্যন্ত বিজেপির বর্ণাঢ্য রোড-শোকে কেন্দ্র করে তৃণমূল ও বিজেপি সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, স্লোগান-পাল্টা স্লোগান এবং পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় এলাকা। শাসকদলের বিরুদ্ধে বিজেপি কর্মীদের মারধর ও নিরাপত্তার গাফিলতির অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে গেরুয়া শিবির।

শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়ন কর্মসূচিতে অংশ নিতে বুধবার গভীর রাতেই কলকাতায় পৌঁছন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। দমদমের নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান শুভেন্দু অধিকারী, বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার–সহ দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। বৃহস্পতিবার সকালে দক্ষিণ কলকাতায় পৌঁছে তিনি শুভেন্দু অধিকারীর পাশাপাশি রাসবিহারী কেন্দ্রের প্রার্থী স্বপন দাশগুপ্ত, বালিগঞ্জের ডঃ শতরূপা এবং চৌরঙ্গী কেন্দ্রের প্রার্থী সন্তোষ পাঠকের সমর্থনেও সরব হন। এদিন মঞ্চে মা কালীর ছবি দিয়ে শাহকে বরণ করে নেন শুভেন্দু।

বেলা পৌনে একটা নাগাদ হাজরা মোড় থেকে বিজেপির রোড-শো শুরু হয়। মিছিলটি যখন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনের নিকটস্থ হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের সামনে দিয়ে যাচ্ছিল, তখনই পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। অভিযোগ, তৃণমূল কর্মীরা মাথায় কালো কাপড় বেঁধে এবং 'জয় বাংলা' স্লোগান দিয়ে বিজেপির রোড-শো বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। দুই পক্ষের মধ্যে শুরু হয় তীব্র বাকবিতণ্ডা। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় পুলিশকে। বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক ধস্তাধস্তি হয়।

বিজেপির অভিযোগ, অমিত শাহের উপস্থিতিতেই তৃণমূলের পতাকা হাতে একদল দুষ্কৃতী মিছিলে ঢুকে পড়ে সমর্থকদের ওপর হামলা চালায়। সার্ভে বিল্ডিংয়ের সামনে তৃণমূল কর্মীদের মারে এক বিজেপি কর্মীর চোখে গুরুতর আঘাত লেগেছে বলে দাবি করা হয়েছে। নিরাপত্তার খাতিরে এবং উত্তেজনা এড়াতে মিছিলের মাঝপথে অমিত শাহকে নিজের গাড়ি পরিবর্তন করে গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়।

মনোনয়ন পর্ব শেষে এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তৃণমূল সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন অমিত শাহ। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে এখন দুর্নীতিই নিয়মে পরিণত হয়েছে। তোলাবাজি ও অনুপ্রবেশের কারণে বাংলার অস্তিত্ব আজ সংকটের মুখে। বাংলার যুবসমাজ বেকারত্বে এবং মহিলারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ভোটারদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, এবার ভয় পাবেন না, কোনও গুন্ডার সাহস নেই আপনাদের ভোট দিতে আটকানোর। তৃণমূলকে শুধু পরাজিত করলেই হবে না, একে শিকড়শুদ্ধ উপড়ে বঙ্গোপসাগরে ছুঁড়ে ফেলতে হবে। তিনি আরও জানান, নির্বাচনের সময় প্রায় ১৫ দিন তিনি বাংলায় থেকে দলের হয়ে প্রচার চালাবেন।

এদিন মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর এক্স-বার্তায় শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুরবাসীকে পরিবর্তনের ডাক দেন। তিনি লেখেন, আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি গত ১৫ বছরের ব্যর্থ, দুর্নীতিগ্রস্ত ও অত্যাচারী শাসনব্যবস্থা থেকে ভবানীপুর তথা পশ্চিমবঙ্গকে মুক্ত করব। মানুষের মৌলিক অধিকার, নিরাপত্তা ও সম্মান ফিরিয়ে আনাই আমার অঙ্গীকার। তিনি আরও যোগ করেন, ভবানীপুরের মানুষ এখন চুরি-দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন, নারীদের সুরক্ষা এবং যুবকদের কর্মসংস্থান চায়।

ভবানীপুর আসনটি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ এখান থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই কেন্দ্রে বিপুল সংখ্যক গুজরাটি ও হিন্দিভাষী ভোটারের পাশাপাশি ১৭ শতাংশ মুসলিম ভোটার রয়েছেন। এদিন দুই পক্ষের সংঘাতের পর গোটা এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হাজরা মোড় ও সার্ভে বিল্ডিং চত্বরে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। যান চলাচল নিয়ন্ত্রণেও কড়াকড়ি করা হয়েছে।

কলকাতার কর্মসূচি শেষ করে অমিত শাহ এদিন বিকেলেই অসমের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জয়ের দাবি এবং অন্যদিকে শুভেন্দু অধিকারীর পরিবর্তনের অঙ্গীকার— সব মিলিয়ে ভবানীপুরের লড়াই এখন সারা দেশের নজর কেড়েছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande