( রাউন্ড আপ) নির্বাচন ২৬: হলফনামায় সম্পত্তি ও মামলার খতিয়ান দিলেন অধীর, শুভেন্দু ও অগ্নিমিত্রা
কলকাতা, ৩ এপ্রিল (হি.স.): পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পারদ চড়তে শুরু করেছে হেভিওয়েট প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিলের মধ্য দিয়ে। বৃহস্পতিবার রাজ্যের তিন বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব— বহরমপুর থেকে কংগ্রেস প্রার্থী অধীর রঞ্জন চৌধুরী, ভবানীপুর থেকে বিজ
অধীর, শুভেন্দু ও অগ্নিমিত্রা


কলকাতা, ৩ এপ্রিল (হি.স.): পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পারদ চড়তে শুরু করেছে হেভিওয়েট প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিলের মধ্য দিয়ে। বৃহস্পতিবার রাজ্যের তিন বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব— বহরমপুর থেকে কংগ্রেস প্রার্থী অধীর রঞ্জন চৌধুরী, ভবানীপুর থেকে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী এবং আসানসোল দক্ষিণ থেকে বিজেপি প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পাল নিজ নিজ কেন্দ্রে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। এই মনোনয়নের সঙ্গে দাখিল করা হলফনামা থেকে সামনে এসেছে তাঁদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির খতিয়ান, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং গত পাঁচ বছরে তাঁদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার পরিসংখ্যান।

রাজ্যের হাইভোল্টেজ কেন্দ্র ভবানীপুরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন বিরোধী দল নেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর হলফনামা অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে তাঁর মোট সম্পত্তি প্রায় ১৯.৬৫ লক্ষ টাকা হ্রাস পেয়েছে। ২০২১ সালে শুভেন্দুর মোট সম্পত্তির পরিমাণ ছিল প্রায় ১ কোটি ৫ লক্ষ টাকা, যা ২০২৬-এর হলফনামায় কমে দাঁড়িয়েছে ৮৫ লক্ষ ৮৭ হাজার ৬০০ টাকায়। এই সময়ে তাঁর স্থাবর সম্পত্তির মূল্য বাড়লেও অস্থাবর সম্পত্তিতে উল্লেখযোগ্য পতন লক্ষ্য করা গিয়েছে। বর্তমানে শুভেন্দুর কাছে নগদ ১২ হাজার টাকা রয়েছে।

সম্পত্তি কমলেও শুভেন্দুর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার সংখ্যায় ব্যাপক বৃদ্ধি ঘটেছে। ২০২১ সালের নির্বাচনে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো মামলা না থাকলেও, ২০২৬ সালের হলফনামায় ২৯টি ফৌজদারি মামলার উল্লেখ রয়েছে। এই মামলাগুলি কলকাতা ও রাজ্যের বিভিন্ন জেলার একাধিক থানায় দায়ের করা হয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতার নিরিখে শুভেন্দু অধিকারী ২০১১ সালে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেছেন। এবার তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ভবানীপুর ও নিজের পুরনো কেন্দ্র নন্দীগ্রাম— দুই জায়গা থেকেই লড়াই করছেন।

আসানসোল দক্ষিণ কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল তাঁর হলফনামায় এক চমকপ্রদ তথ্য দিয়েছেন। সেখানে দেখা যাচ্ছে, বিধায়ক হওয়ার পর তাঁর বার্ষিক আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০১৫-১৬ থেকে ২০১৯-২০ অর্থবর্ষে তাঁর গড় বার্ষিক আয় ছিল ১৬.২৯ লক্ষ টাকা, যা ২০২০-২১ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩.৭৩ লক্ষ টাকায়। তবে আয় কমলেও তাঁর অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ বেড়েছে। ২০২১ সালে যা ছিল ১.১০ কোটি টাকা, ২০২৬ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২.৫৬ কোটি টাকায়। মূলত সোনার গয়নার দাম বৃদ্ধি পাওয়াই এই সম্পত্তির উত্থানের কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।

অগ্নিমিত্রার বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যাও ২০২১ সালের তুলনায় বেড়েছে। গত নির্বাচনে তাঁর বিরুদ্ধে মাত্র ২টি মামলা থাকলেও বর্তমানে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮-তে। আসানসোল, খড়্গপুর ও ভবানীপুরসহ বিভিন্ন থানায় এই মামলাগুলি দায়ের হয়েছে। সম্পত্তির পাশাপাশি অগ্নিমিত্রার ঋণের পরিমাণও আগের তুলনায় হ্রাস পেয়েছে। হলফনামা অনুযায়ী, ২০২১ সালে তাঁর ঋণের পরিমাণ ছিল ১৯.৭১ লক্ষ টাকা, যা এখন কমে হয়েছে ১২.০১ লক্ষ টাকা।

মুর্শিদাবাদের বহরমপুর কেন্দ্র থেকে কংগ্রেসের টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন প্রাক্তন সাংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরী। তাঁর দাখিল করা হলফনামা অনুযায়ী, অধীরের কাছে বর্তমানে নগদ ৯৪,৫০০ টাকা এবং তাঁর চারটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে মোট ৬ লক্ষ ৪২ হাজার ৬১১ টাকা জমা আছে। এছাড়াও তাঁর ৮ লক্ষ ১৫ হাজার ৭০৫ টাকার মিউচুয়াল ফান্ড বিনিয়োগ ও ৩ লক্ষ টাকার জীবন বীমা পলিসি রয়েছে। সব মিলিয়ে অধীর চৌধুরীর মোট অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ৪৮ লক্ষ ৪০ হাজার ৬০২ টাকা। তবে তাঁর স্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ বেশ নজরকাড়া; জমি ও বাড়ি মিলিয়ে তাঁর মোট ৬ কোটি ৭৩ লক্ষ ১৫ হাজার ৫০০ টাকার সম্পত্তি রয়েছে।

অধীর চৌধুরীর স্ত্রীর নামেও বিপুল সম্পত্তি রয়েছে বলে হলফনামায় জানানো হয়েছে। তাঁর স্ত্রীর অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ১ কোটি ২৭ লক্ষ ৮৯ হাজার ৯৩৪ টাকা এবং স্থাবর সম্পত্তির বাজারমূল্য ৪ কোটি ৩২ লক্ষ ২৮ হাজার ৫০০ টাকা। রাজনীতির পাশাপাশি সমাজসেবাকে পেশা হিসেবে উল্লেখ করা অধীর চৌধুরীর বিরুদ্ধে বর্তমানে তিনটি ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষিত এই বর্ষীয়ান নেতা দীর্ঘ সংসদীয় অভিজ্ঞতার পর এবার ফের বিধানসভার লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন।

রাজ্য রাজনীতির এই তিন হেভিওয়েট প্রার্থীর হলফনামা বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে, গত পাঁচ বছরে তাঁদের রাজনৈতিক সক্রিয়তা বাড়ার পাশাপাশি আইনি জটিলতাও বেড়েছে। বিশেষ করে বিরোধী শিবিরের দুই নেতা শুভেন্দু অধিকারী ও অগ্নিমিত্রা পালের বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা একলাফে অনেকটাই বেড়েছে। অন্যদিকে, দীর্ঘ কয়েক দশক জাতীয় রাজনীতি সামলানোর পর অধীর চৌধুরীর রাজ্য বিধানসভায় ফেরার লড়াই এই নির্বাচনকে এক নতুন মাত্রা দিয়েছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande