বাউল-দর্শন বাংলার মানবিক ও প্রগতিশীল সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ : সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই
।। রাজীব দে ।। ঢাকা, ৮ এপ্রিল (হি.স.) : বাংলাদেশের আবহমান বাংলার সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ও প্রগতিশীল ধারা হলো বাউল-দর্শন। এই দর্শন মানুষের ভেতরের মানুষকে খোঁজার কথা বলে এবং মানবতা, ভালোবাসা ও সাম্যের বাণী ছড়িয়ে দেয়। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইন
বক্তব্য পেশ কছেন বাংলাদেশের মন্ত্রী নিতাই রায়চৌধুরী (বাঁদিক থেকে   দ্বিতীয়)


।। রাজীব দে ।।

ঢাকা, ৮ এপ্রিল (হি.স.) : বাংলাদেশের আবহমান বাংলার সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ও প্রগতিশীল ধারা হলো বাউল-দর্শন। এই দর্শন মানুষের ভেতরের মানুষকে খোঁজার কথা বলে এবং মানবতা, ভালোবাসা ও সাম্যের বাণী ছড়িয়ে দেয়। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে বাংলাদেশ বাউল ও লোকশিল্পী সংস্থা আয়োজিত ‘বাংলাদেশে বাউলদের অর্থ-সামাজিক জরিপ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি দফতরের মন্ত্রী নিতাই রায়চৌধুরী কথাগুলি বলেছেন।

শুরুতেই মন্ত্রী নিতাই রায়চৌধুরী আয়োজক প্রতিষ্ঠান, গবেষক, শিল্পী এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। এই উদ্যোগ বাউল সমাজের বাস্তব চিত্র তুলে ধরতে সহায়তা করবে এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, বাউলরা আমাদের সমাজের সবচেয়ে প্রতিভাবান শিল্পীদের মধ্যে অন্যতম। তাঁরা ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণিভেদ ভুলে মানুষে মানুষে ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে তোলার কথা বলেন। তাঁদের এই অসাম্প্রদায়িক চিন্তাধারা আমাদের সমাজকে আলোকিত করে এবং একটি সহনশীল সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তিনি বলেন, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রালয় দেশের লোকসংগীত ও লোকসংস্কৃতি নিয়ে গুরুত্ব সহকারে কাজ করছে। বাউল গান ও বাউল-দর্শন শুধু আমাদের ঐতিহ্যের অংশ নয়, এটি আমাদের সমাজকে মানবিক ও অসাম্প্রদায়িক করে গড়ে তুলতে সহায়তা করে।

নিতাই রায়চৌধুরী বলেন, আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে, দেশের সকল বাউলশিল্পীদের নিয়ে একটি বৃহৎ জাতীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা। সেখানে তাঁদের অভ্যর্থনা জানানো হবে এবং তাঁদের সৃজনশীলতাকে জাতীয়ভাবে তুলে ধরা হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, আমরা হারিয়ে যেতে বসা লোকসংস্কৃতির বিভিন্ন নিদর্শন সংরক্ষণে কাজ করছি। পুরনো গান, বাদ্যযন্ত্র, আচার-অনুষ্ঠান, এসবকে নতুনভাবে সংরক্ষণ ও উপস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের এই সমৃদ্ধ ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে পারে। এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রালয় যথাযথ গুরুত্বের সাথে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বাউল ও লোকশিল্পীদের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

আজকের অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ বাউল ও লোকশিল্পী সংস্থার সভাপতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকবৃন্দ, সংশ্লিষ্ট গবেষক, ইউনেসকো ঢাকা অফিসের প্রধান ও প্রতিনিধি, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষাবিদ, শিল্পী ও গণমাধ্যমের কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস




 

 rajesh pande