
।। রাজীব দে ।।
ঢাকা, ৮ এপ্রিল (হি.স.) : বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)-এর নতুন অ্যাডহক কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) কর্তৃক বিসিবি-র বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে জাতীয় দলের প্ৰাক্তন অধিনায়ক তামিম ইকবালের নেতৃত্বে গঠিত ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটিতে রাশনা ইমামের অন্তর্ভুক্তি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
আইন পেশায় দক্ষতা, সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং জনস্বার্থে দায়েরকৃত গুরুত্বপূর্ণ মামলায় সফলতার জন্য ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম ইতিমধ্যেই সুপরিচিত। তিনি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন 'সাইবার করাইম অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশন'-এর উপদেষ্টা এবং জাতীয় পর্যায়ের সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতা উদ্যোগেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন তিনি।
১৯৭৯ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণকারী রাশনা ইমাম ম্যাপল লিফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল থেকে ও এবং এ লেভেল সম্পন্ন করে ২০০০ সালে যুক্তরাজ্যে পাড়ি দেন। তিনি ইউনিভার্সিটি অব বাকিংহাম থেকে এলএলবি ও এলএলএম এবং লন্ডনের সিটি ইউনিভার্সিটি থেকে ব্যারিস্টারি সম্পন্ন করে লিংকনস ইন-এর সদস্য হন। পরবর্তীতে তিনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক ব্যাচেলর অব সিভিল ল (বিসিএল) ডিগ্রি অর্জন করেন।
তিনি বিশ্বখ্যাত আইন সংস্থা ‘ব্যাকার ম্যাক-কেনজি’-র লন্ডন অফিসে কর্পোরেট আইন বিভাগে কাজ করেছেন। এছাড়াও ‘আর্সিলরমিত্তাল’ এবং ‘স্নাইডার ইলেকট্রিক’-এর মতো বৈশ্বিক শিল্পগোষ্ঠীকে প্রতিনিধিত্ব করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর।
২০১৮ সালে ‘এশিয়া সোসাইটি’ প্রকাশিত ‘এশিয়া ইয়াং লিডারস্’ তালিকায় এশিয়ার ৩১ জন তরুণ নেতৃত্বের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে স্থান পান রাশনা ইমাম। এছাড়া আন্তর্জাতিক রেটিং সংস্থা 'চেম্বারস অ্যান্ড পার্টনারস এশিয়া প্যাসিফিক ২০১৮'-এও তিনি শীর্ষস্থানীয় আইনজীবী হিসেবে স্বীকৃতি পান।
দেশে ফিরে তিনি বিভিন্ন বহুজাতিক কোম্পানি ও বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীকে আইনি পরামর্শ প্রদানের পাশাপাশি উচ্চ আদালতে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ, মৃত্যু-পরবর্তী অঙ্গদান এবং বৈষম্যমূলক আইনের বৈধতা চ্যালেঞ্জসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রিট মামলায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।
ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম পারিবারিকভাবেও আইন অঙ্গনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাঁর বাবা আখতার ইমাম সুপ্রিম কোর্টের একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এবং তাঁর স্বামী ববি হাজ্জাজ একজন রাজনীতিবিদ।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিসিবির পুনর্গঠিত অ্যাডহক কমিটিতে তাঁর অন্তর্ভুক্তি দেশের ক্রীড়া প্রশাসনে আইনি ও নীতিনির্ধারণী দক্ষতার এক অনন্য সমন্বয় ঘটাবে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস