
১১ জুন শুরু ফুটবল বিশ্বকাপ। যুক্তরাষ্ট্র , কানাডা ও মেক্সিকোয় শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপে খেলছে ৪৮ দল। ‘বিশ্বকাপের দল' শীর্ষক এই ধারাবাহিকে থাকছে বিশ্বকাপের ছোট দলগুলোকে নিয়ে। কোন দল কেমন, সেটি তুলে ধরার প্রয়াস থাকছে। আজকের পর্বে আইভরি কোস্ট।
কলকাতা, ১৩ মে(হি.স.): ২০১৪ সালে ব্রাজিল বিশ্বকাপের পর আর বিশ্বমঞ্চে আইভরি কোস্টকে দেখা যায়নি। সেবার গ্রিসের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের গোলে চূর্ণ হয়ে গিয়েছিল তাদের সোনালি প্রজন্মের স্বপ্ন। এরপর টানা দুটি বিশ্বকাপে দেখা যায়নি তাদের। ২০২৬ বিশ্বকাপে আবার পা রেখেছে পশ্চিম আফ্রিকার এই দেশটি।
এবার তারা দারুন সাফল্য পেয়েছে বাছাইপর্বে। ১০টি ম্যাচের একটিতেও হারেনি। ৮টি জয় আর ২টি ড্র নিয়ে অপরাজিত থেকে বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করেছে। তাও যৌথভাবে আফ্রিকার মধ্যে প্রথম হয়ে। সবচেয়ে বিস্ময়কর হলো, ১০ ম্যাচে একটি গোলও খায় নি তারা। নিশ্ছিদ্র রক্ষণ আর ধারালো আক্রমণের এই মেলবন্ধন তাদের নিয়ে গেছে এক অন্য উচ্চতায়।
আর তাদের এই সাফল্যের নেপথ্যে যিনি আছেন তিনি হলেন কোচ এমেরসে ফায়ের। এবারের বিশ্বকাপে আসার পেছনে তার রয়েছে বিরাট অবদান। ২০২৪ আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের মাঝপথে তিনি দায়িত্ব নিয়েছিলেন। তখন টুর্নামেন্টে দলটির অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। সেই খাদের কিনারা থেকে টেনে তুলে,পুরো দলকে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে এনে নাইজেরিয়াকে হারিয়ে শিরোপাও এনে দিয়েছিলেন। সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আইহরি কোস্টকে বিশ্বকাপে পৌঁছে দিয়েছেন।
তবে আইভরি কোস্টের কাছে এবারের বিশ্বকাপ এক অভিশপ্ত ইতিহাস ভাঙার। কারণ ,অতীতে তাদের বিশ্বকাপ-যাত্রা সব সময়ই থেমে গেছে গ্রুপপর্বে। ২০০৬, ২০১০ এবং ২০১৪—টানা তিন বিশ্বকাপে অংশ নিলেও তারা অংশ নকআউট পর্বে যেতে পারেনি। কখনও আর্জেন্টিনা-নেদারল্যান্ডস, আবার কখনও ব্রাজিল-পর্তুগালের মতো ‘ডেথ গ্রুপে’ পড়ে কপাল ভেঙেছে।
এবার তাদের গ্রুপে আছে জার্মানি, ইকুয়েডর ও কুরাসাও। তাই এবার তারা চেষ্টা করবে অতীতের সেই রেকর্ড ভাঙার।দলটির বর্তমান স্কোয়াডের খেলোয়াড়রা প্রায় সবাই ইউরোপের বড় লিগগুলোতে খেলছেন। এটি প্রমাণ করে যে তাদের দেশের ফুটবলাররা এখন বিশ্ব ফুটবলে কতটা জনপ্রিয়। বিশ্লেষকরাও বলছেন, এবারের দলটি গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ। তাদের আক্রমণভাগ ও রক্ষণভাগ দুটোই যথেষ্ট শক্তিশালী। দীর্ঘ এক যুগের খরা কাটিয়ে যখন তারা উত্তর আমেরিকার মাঠে খেলতে নামবে, তখন তাদের চোখে থাকবে আফ্রিকার ফুটবলের নতুন ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন।
এই দলের তারকা ফুটবলার: ফ্রাঙ্ক কেসি:
২৯ বছর বয়সী এই অধিনায়ক এখন মাঝমাঠে আইভরি কোস্টের মূল ভরসা। মাঠের কৌশল সাজানো এবং রক্ষণ ও আক্রমণের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরিতে কেসি এখন দলের অপরিহার্য নাম। এক যুগের আক্ষেপ ঘুচিয়ে বিশ্বমঞ্চে ফেরা আইভরি কোস্টের সাফল্যের বড় ভরসা অভিজ্ঞ এই দলপতিই।
এক নজরে আইভরি কোস্ট: **র্যাঙ্কিং: ৩৪
**বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ: ৪ বার (২০০৬,২০১০,২০১৪ ও ২০২৬)
**সর্বোচ্চ সাফল্য: গ্রুপপর্ব
**ম্যাচ ৯,জয়৩, হার৫, ড্র১
গ্রুপ পর্বের ম্যাচ:
**১৫ জুন,ইকুয়েডর, ফিলাডেলফিয়া, ভোর ৫টা
**২০ জুন, জার্মানি,টরন্টো, রাত ২টা
**২৫ জুন, কুরাসাও, ফিলাডেলফিয়া, রাত ২টা।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / শান্তি রায়চৌধুরি