
ঢাকা, ১৪ মে (হি.স.): বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে যখন বিগত শাসনকালে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধার ও অর্থ পাচার বন্ধে নানা পদক্ষেপের কথা বলা হচ্ছে, তখন পুলিশই বলছে-খুব সহজেই দেশ থেকে টাকা পাচার করতে পারছে অনলাইনে জুয়া ও প্রতারণার ফাঁদ পেতে বসা দেশি-বিদেশি চক্রগুলো। অনলাইন জুয়া, সাইবার প্রতারণা ও অবৈধ ডিজিটাল আর্থিক লেনদেন চক্রের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে ৬ চিনা নাগরিক-সহ মোট ৯ জনকে গ্রেফতারের পর এই তথ্য জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। বৃহস্পতিবার ডিএমপি-র মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিবি-র অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশিদের প্রলুদ্ধ করা ‘সহজ হওয়ায়’ এই ধরনের চক্রগুলো এখানে বেশি সংখ্যায় ফাঁদ পাতছে। আর বিকাশ ও নগদের মতো মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে সাধারণ নাগরিকদের কাছ থেকে পাওয়া টাকা তারা তাৎক্ষণিকভাবেই বিদেশে পাচার করে ফেলতে পারছে। এসব প্রতিরোধে ডিবি-র তরফে আইন প্রণেতাদের সঙ্গে কথা বলা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বুধবার রাজধানীর উত্তরা ও তুরাগ এলাকা থেকে ৬ চিনা নাগরিক-সহ ৯ জনকে গ্রেফতার করে ডিবি-র সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগ।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন-এমএ জি, ঝাং জিয়াহাও, লিউ জিঞ্জি, ওয়াং শিবো, চাং তিয়ানতিয়ান, জেমস ঝু ও কাউসার হোসেন (২৪), আব্দুল কারিম (২৮) ও রোকন উদ্দিন (৪০)।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, নিয়মিত সাইবার নজরদারিতে ফেসবুক, ইউটিউব, টেলিগ্রাম গ্রুপে এবং বিভিন্ন ভুয়ো ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইন জুয়ার বিজ্ঞাপন, ডিপোজিট বোনাসের প্রলোভন এবং বিকাশ বা নগদ ব্যবহার করে অবৈধ লেনদেনের তথ্য শনাক্ত হয়। এই সব ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে স্বল্প সময়ে দ্বিগুণ-তিনগুণ লাভের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার ফাঁদে ফেলা হচ্ছিল। এমনই তথ্যের ভিত্তিতে উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টর ও তুরাগ এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
তাদের কাছ থেকে তিনটি ৬৪-পোর্ট বিশিষ্ট, একটি ২৫৬ পোর্ট বিশিষ্ট এবং একটি ৮ পোর্ট বিশিষ্ট জিএসএম সিম মডিউল বা জিএসএম গেটওয়ে (ভিওআইপি গেটওয়ে), বিভিন্ন অপারেটরের প্রায় ২৮০টি সিম কার্ড, একাধিক ল্যাপটপ এবং স্মার্টফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদ সম্মেলনে ডিবি জানায়, ধৃতরা সংঘবদ্ধভাবে অনলাইন জুয়া, প্রতারণা, অবৈধ ই-লেনদেন এবং অর্থপাচার চক্রের সদস্য। তারা দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে অন্যের নামে নিবন্ধিত এমএফএস এজেন্ট সিম সংগ্রহ করে সেগুলো জিএসএম গেটওয়ে ডিভাইসে ব্যবহার করে একসঙ্গে শতাধিক সিম সক্রিয় রাখতো। এসব সিম ব্যবহার করে অনলাইন জুয়ার অর্থ, প্রতারণার টাকা এবং অবৈধ লেনদেন পরিচালনা করা হতো। চক্রটি নিজস্ব জুয়ার পোর্টাল পরিচালনার পাশাপাশি কোটি কোটি টাকা বিদেশে বিশেষ করে চিনে পাচার করছিল। এক প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি-র ডিবি প্রধান শফিকুল বলেন, বিকাশ বা নগদ এর মাধ্যমে টাকাটা তাদের কাছে আসছে এবং তাৎক্ষণিকভাবেই সেটা তারা বিদেশে পাচার করে দিচ্ছে। এটা আমাদের জন্য খুবই ক্ষতিকর। বাংলাদেশ থেকে অর্থ পাচার ‘সহজ হয়ে গেছে’ বলে মন্তব্য করেন ডিবি-র প্রধান।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সংবাদ