টেলিকম পরিকাঠামোয় বড় পদক্ষেপ নবান্নর, কেন্দ্রের 'রাইট অফ ওয়ে' নীতি মেনে গতি পাচ্ছে 'ভারতনেট'
লকাতা, ১৬ মে (হি. স.): দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে রাজ্যের ডিজিটাল পরিকাঠামো মজবুত করতে এবং টেলিকম ব্যবস্থার বিস্তারে বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। গ্রামীণ এলাকায় ভারতনেট প্রকল্পের গতি বাড়াতে কেন্দ্রের ‘টেলিকমিউনিকেশনস (রাইট অফ ওয়
রাজ্য সরকারের বিঞ্জপ্তি জারি করা হয়েছে


লকাতা, ১৬ মে (হি. স.): দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে রাজ্যের ডিজিটাল পরিকাঠামো মজবুত করতে এবং টেলিকম ব্যবস্থার বিস্তারে বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। গ্রামীণ এলাকায় ভারতনেট প্রকল্পের গতি বাড়াতে কেন্দ্রের ‘টেলিকমিউনিকেশনস (রাইট অফ ওয়ে) রুলস, ২০২৪’-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন গাইডলাইন বা নির্দেশিকা ঘোষণা করেছে রাজ্য প্রশাসন। নবান্নর এই সিদ্ধান্তের ফলে ডিজিটাল সংযোগের ক্ষেত্রে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

​দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ উঠছিল যে, দেশের অন্যান্য রাজ্য যখন অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্ক এবং উচ্চগতির ইন্টারনেট পরিষেবা সম্প্রসারণে দ্রুত এগিয়ে চলেছে, তখন পশ্চিমবঙ্গ প্রশাসনিক জটিলতা ও নীতিগত ধীরগতির কারণে অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে। বিশেষত গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত এলাকায় ইন্টারনেটের মান নিয়ে অসন্তোষ ছিল চরমে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকারের রাইট অফ ওয়ে সংক্রান্ত অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করার সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এর ফলে রাস্তা বা সরকারি জমির ওপর দিয়ে অপটিক্যাল ফাইবার লাইন নিয়ে যাওয়ার ছাড়পত্র দ্রুত মিলবে, যা ভারতনেট প্রকল্পের রূপায়ণকে আরও ত্বরান্বিত করবে।

​এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে যথারীতি শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। বিরোধী শিবিরের দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’ রূপায়ণের লক্ষ্য এবং কেন্দ্রের ধারাবাহিক চাপের মুখে পড়েই রাজ্য সরকার শেষ পর্যন্ত এই গাইডলাইন কার্যকর করতে বাধ্য হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও এই প্রসঙ্গে দাবি করেন, “ডাবল ইঞ্জিন প্রশাসনের মূল লক্ষ্যই হলো বাংলার প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের কাছে আধুনিক পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া।”

​প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ভারতনেট প্রকল্প পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে বাংলার গ্রামীণ শিক্ষা, টেলিমেডিসিন, ই-গভর্ন্যান্স এবং কুটির ও ক্ষুদ্র ব্যবসার ক্ষেত্রে এক আমূল পরিবর্তন আসবে। এর ফলে শহরের সঙ্গে গ্রামের ডিজিটাল বৈষম্যও অনেকাংশে কমে যাবে। তবে কাগজ-কলমের এই নির্দেশিকা প্রশাসনিক স্তরে কতটা দ্রুত এবং সমন্বয়ের সঙ্গে মাটিতে রূপায়িত হয়, এখন সেটাই দেখার।

হিন্দুস্থান সমাচার / শুভদ্যুতি দত্ত




 

 rajesh pande