
কলকাতা, ১৬ মে (হি. স.): এ রাজ্যে জাতীয় সড়ক পরিকাঠামোর সম্প্রসারণ ও গতি বাড়াতে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। জাতীয় সড়কের মোট সাতটি বাঁক বা অংশ নির্মাণের জন্য অবশেষে রাজ্য সরকারের তরফে সম্মতি দেওয়া হয়েছে। এ রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ কুমার আগরওয়াল স্বাক্ষরিত একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা বিস্তারিতভাবে জানানো হয়েছে। এই সম্মতির পরিপ্রক্ষিতে ন্যাশনাল হাইওয়ে অথরিটি অফ ইন্ডিয়া বা এনএইচএআই -এর কাছে তিনটি বড় প্রকল্পের জন্য জমি হস্তান্তর করা হচ্ছে। এর মধ্যে প্রথম প্রকল্পটি হলো মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর থেকে উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট পর্যন্ত বিস্তৃত প্রায় ৩২৯.৬ কিলোমিটার দীর্ঘ পথ। দ্বিতীয় প্রকল্পটি বিহার ও বাংলা সীমান্তের মালদা গাজোল এলাকার সম্পূর্ণ বাঁক নির্মাণ এবং তৃতীয় প্রকল্পটি বাংলা-বিহার সীমান্তের ফরাক্কা পর্যন্ত বিস্তৃত এক বিরাট কার্যক্রম। এই তিনটি ক্ষেত্রেই জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের কাছে জমি সংক্রান্ত বিষয়ে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে, যার ফলে এই সড়ক প্রকল্পগুলির কাজ নিঃসন্দেহে আরও দ্রুত গতি পাবে।
এর পাশাপাশি আরও চারটি প্রকল্পের কাজ প্রায় এক বছর ধরে জমি ও অন্যান্য প্রশাসনিক জটিলতায় আটকে ছিল, যেগুলির ক্ষেত্রেও এবার বড় অগ্রগতি মিলল। এই প্রকল্পগুলির জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপের প্রয়োজন ছিল। ন্যাশনাল হাইওয়েজ অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন লিমিটেড -এর অধীনে থাকা এই চারটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে ৬৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সেবক আর্মি ক্যান্টনমেন্ট থেকে করোনেশন ব্রিজ হয়ে কালিম্পং ও সিকিম পর্যন্ত সংযোগকারী পথ। এছাড়া রয়েছে হাসিমারা থেকে জয়গাঁ পর্যন্ত ইন্দো-ভুটান সীমান্ত অঞ্চলের সম্পূর্ণ রাস্তাটি। পরবর্তী প্রকল্পটি হলো বড়দিঘী-ময়নাগুড়ি হয়ে বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন চ্যাংরাবান্ধা পর্যন্ত বিস্তৃত সড়কপথ এবং শেষ প্রকল্পটি হলো শিলিগুড়ির দার্জিলিং মোড় থেকে কার্শিয়াং হয়ে পাহাড়ের রানি দার্জিলিং পর্যন্ত সংযোগকারী জাতীয় সড়ক। রাজ্যের এই সম্মতির ফলে ভারত-ভুটান ও ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকার পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি ও সমতল অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক আমূল পরিবর্তন আসতে চলেছে বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল।
হিন্দুস্থান সমাচার / শুভদ্যুতি দত্ত