
দক্ষিণ ২৪ পরগনা, ১৬ মে (হি.স.) :
নারী পুলিশ কর্মীদের সুবিধার্থে বদলি নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার ডায়মন্ডহারবারে এক প্রশাসনিক বৈঠকে তিনি এই মন্তব্য করেছেন।
তিনি জানান, নারী কর্মীদের সুদূর জেলায় বদলি না করে পার্শ্ববর্তী জেলার মধ্যে পোস্টিং দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হবে। দীর্ঘদিন কর্মরত নারী কনস্টেবলদের নিজ জেলায় পোস্টিংয়ের বিষয়েও ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তোলাবাজি, সিন্ডিকেট রাজ এবং অবৈধ টোল আদায়ের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, আজ থেকে কোনো বৈধ রসিদ ছাড়া অবৈধভাবে টাকা তোলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সাধারণ মানুষকে সরাসরি থানায় অভিযোগ জানানোর আহ্বান জানিয়ে পুলিশকে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শব্দ দূষণ, বেআইনি খনি, অবৈধ মাইনিং এবং বেআইনি টোল প্লাজার বিরুদ্ধেও জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণের কথা ঘোষণা করা হয়।
সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর বা পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় শুধু গ্রেফতার নয়, ক্ষতিগ্রস্ত সরকারি সম্পত্তির আর্থিক ক্ষতিপূরণও অভিযুক্তদের থেকেই আদায় করা হবে বলে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দেন। প্রশাসনিক ব্যবস্থার গরিমা পুনরুদ্ধারের প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রশাসনিক বৈঠকে সরকারি আধিকারিকদের অসম্মান করা বা রাজনৈতিক ভাষণ দেওয়ার সংস্কৃতি আর চলবে না। প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও আধিকারিকদের পেশাগত মর্যাদাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
এছাড়াও সমস্ত সরকারি সার্কুলার বাংলা, হিন্দি এবং প্রয়োজনে নেপালি ভাষায় অনুবাদ করে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ প্রশাসনে বড় সংস্কারের অংশ হিসেবে বর্তমান ‘পুলিশ ওয়েলফেয়ার বোর্ড’ অবিলম্বে ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, এই বোর্ড দীর্ঘদিন ধরে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক স্বার্থগোষ্ঠীর হাতিয়ারে পরিণত হয়েছিল। আগামী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন ও স্বচ্ছ ওয়েলফেয়ার কাঠামো গঠনের জন্য উচ্চপর্যায়ের কমিটি তৈরির কথাও ঘোষণা করা হয়েছে।
রাজ্যবাসীকে আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, প্রশাসন থেকে ভয়ের পরিবেশ দূর করে আইনের শাসন, স্বচ্ছতা এবং মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনাই এই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / মৌসুমী সেনগুপ্ত