
হাসনাবাদ, ১৬ মে (হি. স.) : কলকাতার তিলজলার পর এবার উত্তর ২৪ পরগনার হাসনাবাদে চলল প্রশাসনের বুলডোজার। স্থানীয় তালপুকুর এলাকায় আদালতের নির্দেশ মেনে একটি অবৈধ নির্মাণ গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো। শনিবার সকাল থেকেই হাসনাবাদ থানার পুলিশ এবং ব্লকের বিডিওর উপস্থিতিতে এই উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। আইনশৃঙ্খলার অবনতি রুখতে এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছিল কেন্দ্রীয় বাহিনীও।
প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাসনাবাদের তালপুকুর এলাকায় গিয়াসউদ্দিন নামে এক ব্যক্তির জায়গা অবৈধভাবে দখল করার অভিযোগ উঠেছিল সাদ্দাম হোসেন নামে এক দাপুটে ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ, জমি দখল করে সেখানে বেআইনিভাবে দোকানঘর তৈরি করেছিলেন সাদ্দাম। এই নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের হলে ২০২২ সালেই আদালত ওই নির্মাণ ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেয়। কিন্তু অভিযোগ, সাদ্দাম হোসেন রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এতদিন সেই নির্দেশ কার্যকর হতে দেননি। তবে রাজ্যে সাম্প্রতিক ক্ষমতা বদলের পর অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, কোনো বেআইনি নির্মাণ রেয়াত করা হবে না, এমনকি প্ল্যান না থাকলে জল ও বিদ্যুতের লাইনও কেটে দেওয়া হবে। সেই কড়া বার্তার পরেই আজ এই পদক্ষেপ।
জমিমালিক গিয়াসউদ্দিনের ছেলে সিরাজ বৈদ্য লাল্টু এই অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “১৯৭৫ সাল থেকে এই জমিটা আমাদের ছিল। একজন সমাজবিরোধী রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থেকে আমাদের জায়গা দখল করে রেখেছিল। জমি ফেরত চাইলে প্রকাশ্যে মারধর ও হুমকিও দেওয়া হতো। ২০২২ সালে কোর্ট অর্ডার দিলেও আমরা জায়গা ফেরত পাইনি। সরকার বদল হতেই এই বেআইনি নির্মাণ ভাঙা হচ্ছে, আমরা অত্যন্ত খুশি।”
অন্যদিকে, সাদ্দাম হোসেনের বিজনেস পার্টনার কুরবান হোসেন আদালতের নির্দেশকে সম্মান জানালেও প্রশাসনের তাড়াহুড়ো নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর দাবি, “বেআইনি নির্মাণ হলে ভাঙা হতেই পারে, কিন্তু নোটিস দেওয়ার পর আমাদের ন্যূনতম সময়টুকু দেওয়া হয়নি। অন্তত ৭ দিন সময় দেওয়া উচিত ছিল। আমরা এই নিয়ে সুপ্রিম কোর্টেও গিয়েছি এবং মামলাটি বর্তমানে পেন্ডিং রয়েছে। তার মধ্যেই এই ভাঙার কাজ শুরু করে দেওয়া হলো।”
তিলজলার বহুতলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর থেকেই রাজ্যজুড়ে বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে প্রশাসনের এই কড়া মনোভাব ও বুলডোজার অভিযান ঘিরে জেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি