
কলকাতা, ১৬ মে (হি. স. ) : নাগরিকজীবন বিপর্যস্ত করার দায়ে কিছু অঞ্চলে দখলদার হকারদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে। সামাজিক মাধ্যমে এর প্রতিবাদ করতে গিয়ে নেটনাগরিকদের একাংশের কটাক্ষের শিকার হলেন সিপিএম নেত্রী মধুজা সেনরায়।
শনিবার মধুজা একটি পোস্টার যুক্ত করে ফেসবুকে লিখেছেন, “শিয়ালদা স্টেশনে সস্তার বিস্কুট, মুড়ি, ডিম সেদ্ধ, লেবু জল, ঘুগনি বিক্রি করা গরীব হকাররা কেন থাকবেন? Wow momo, অঞ্জলী জুয়েলার্স, সেনকো, ফ্যামিলি মল, দামী জন আহার, মিও আমোরে থাকবে...
ও হ্যাঁ, RSS চালিত গীতা প্রেসও থাকবে...”।
এই পোস্ট করার দু’ঘন্টায়, শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ১৪০টি প্রতিক্রিয়া এসেছে। অধিকাংশের মন্তব্যেই বক্রোক্তি। সৌম্য সাঁতরা লিখেছেন, “এই হকারদের ব্যবহার কিন্তু একদমই ভালো না!” জয়দীপ সেনগুপ্ত লিখেছেন, “যাদের সমস্যা তাদের বুঝতে দাও আগে তারপর লড়াইয়ে নামো”।
উৎপল দত্ত লিখেছেন, “এরা কেউ গরীব নয় তাদের বাড়িতে গিয়ে দেখেন যা আছে তা আপনার হয়তো নেই....”। অপর একটি পোস্টে তিনি লিখেছেন, আমার পাশেই থাকে তিন তলা বাড়ি, দুটো গাড়ি, আরো অনেক কিছুই আছে....তার ছেলে ও মেয়ে প্রাইভেট ইস্কুলে পড়ে। আমার ছেলেরা সরকারী ইস্কুলে পড়ে। সে বাসমতি চালের ভাত খায়। আমি মাসুরী চালের ভাত খাই....। আর বলব, আমার মামার ছেলে গড়িয়াহাটে ফুটপাথের ওপর দোকান, তার দুটো ফ্ল্যাট। তার ছেলেও প্রাইভেট ইস্কুলে পড়ে। ওর নিজের দুটো গাড়ি। ব্যাতিক্রম কয়েকজন গরীব। ১০০ জনের মধ্যেই ২০ জন গরীব হতে পারে! বাকি সব পয়সাওয়ালা!”
পার্থ মিত্র লিখেছেন, “অবৈধ হকারদের বের করে ঠিক করেছে!” প্রীতম চৌধুরী লিখেছেন, “জায়গা দখল করে, সাধারণ মানুষকে অসুবিধা করে, তারা থাকবে! আর বাকিরা পয়সা দিয়ে জায়গা কিনে ব্যবসা করলেই দোষ! ভালো কাজকে ভালো বলতে শিখুন না!”
তন্ময় সরকার লিখেছেন, “খুব খারাপ ব্যবহার ওদের। যাত্রীদের যাতায়াতের অসুবিধা করে জায়গা আটকে রাখে।” মোনালিসা মুখার্জী লিখেছেন, “তোলা কত উঠত জানেন? আপনার বাড়ির সামনে দশজন হকারকে বসিয়ে দিন। দেখি আপনার মানবিকতা!”
চন্দন কুমার সাহানা লিখেছেন, “আপনার বাড়ির সামনে ওদেরকে বসিয়ে দিন!
নীলাঞ্জন ভট্টাচার্য লিখেছেন, “নিজে জমি কিনে জায়গা দিন! কে বারণ করেছে? মিডিয়াতে কেঁদে লাভ নেই, কাজের কাজ করুন।“
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / মৌসুমী সেনগুপ্ত