এসকর্ট কমিয়ে স্কুটিতে অর্থমন্ত্রী, জ্বালানি সাশ্রয়ে দৃষ্টান্ত ত্রিপুরায়
আগরতলা, ১৬ মে (হি.স.) : জ্বালানি সাশ্রয় এবং পরিবেশ রক্ষায় সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিলেন ত্রিপুরার অর্থমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায়। সরকারি কাজকর্মে যাতায়াতের ক্ষেত্রে বিলাসবহুল গাড়ি ও একাধিক এসকর্ট ব্যবহারের পরিবর্তে তিনি এখন থেকে স
স্কুটিতে অর্থমন্ত্রী প্রণোজিৎ সিংহ রায়


আগরতলা, ১৬ মে (হি.স.) : জ্বালানি সাশ্রয় এবং পরিবেশ রক্ষায় সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিলেন ত্রিপুরার অর্থমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায়। সরকারি কাজকর্মে যাতায়াতের ক্ষেত্রে বিলাসবহুল গাড়ি ও একাধিক এসকর্ট ব্যবহারের পরিবর্তে তিনি এখন থেকে স্কুটি ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর এই উদ্যোগ রাজ্যজুড়ে ইতিমধ্যেই ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

শনিবার আগরতলায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জ্বালানি সাশ্রয়ের আহ্বান থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বলেন, দেশের সীমিত জ্বালানি সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং অপ্রয়োজনীয় অপচয় রোধ করা প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি নিজে উদাহরণ তৈরি করতে চান, যাতে সাধারণ মানুষও জ্বালানি সাশ্রয়ে উৎসাহিত হন।

এতদিন তাঁর নিরাপত্তার জন্য দুটি এসকর্ট গাড়ি ব্যবহার করা হতো। এখন থেকে তা কমিয়ে একটি করা হয়েছে। পাশাপাশি, জেলা পর্যায়ে সরকারি কর্মসূচিতে যোগ দিতে গেলে এসকর্ট গাড়ি ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। এমনকি জেলার বাইরে সফরের ক্ষেত্রেও প্রয়োজন ছাড়া অতিরিক্ত গাড়ি ব্যবহার না করার কথা জানিয়েছেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, “আমরা প্রায়শই ছোট ছোট অভ্যাসের মাধ্যমে বড় পরিবর্তন আনতে পারি। জ্বালানি সাশ্রয় মানে শুধু অর্থ সাশ্রয় নয়, এটি পরিবেশ রক্ষার সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত। যত কম জ্বালানি ব্যবহার হবে, তত কম দূষণ হবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।”

তিনি আরও বলেন, পেট্রোল ও ডিজেলের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার দেশের বৈদেশিক মুদ্রার উপরও চাপ সৃষ্টি করে। তাই ব্যক্তিগত ও সরকারি উভয় ক্ষেত্রেই জ্বালানির সাশ্রয়ী ব্যবহার অত্যন্ত জরুরি। সাধারণ মানুষকে গণপরিবহন ব্যবহার, অপ্রয়োজনে গাড়ি না চালানো এবং বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকতে তিনি আহ্বান জানান।

অর্থমন্ত্রীর এই পদক্ষেপকে বিভিন্ন মহল ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। পরিবেশপ্রেমী ও সচেতন নাগরিকদের মতে, একজন মন্ত্রীর এই ধরনের উদ্যোগ সমাজে শক্তিশালী বার্তা দেয় এবং অন্য জনপ্রতিনিধিদেরও একই পথে চলতে উৎসাহিত করতে পারে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা যদি নিজেদের জীবনযাত্রায় সংযম ও সচেতনতার পরিচয় দেন, তাহলে তা সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। প্রণজিৎ সিংহ রায়ের এই উদ্যোগ জ্বালানি সাশ্রয়, পরিবেশ রক্ষা এবং দায়িত্বশীল নাগরিকত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে মত সংশ্লিষ্ট মহলের।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande