
ফলতা, ১৬ মে (হি.স.) : আগামী ২১ মে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে বহু প্রতীক্ষিত পুনর্নির্বাচন। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শনিবার ফলতায় এক হাইভোল্টেজ প্রচার সভায় যোগ দেন রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখান থেকে বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পণ্ডাকে এক লাখ ভোটে জেতানোর আহ্বান জানানোর পাশাপাশি তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান এবং ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র ভাষায় নিশানা করেন তিনি।
রাজ্য রাজনীতিতে তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান এখন ‘পুষ্পা’ নামেই সমধিক পরিচিত। তাঁর নাম না করে বা উড়িয়ে দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী এদিন সুর চড়িয়ে বলেন, “কোথায় ওই ডাকাতটা? পুষ্পা না কী যেন নাম!” এর পরেই কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ওর ব্যবস্থা আমি করব। সেই দায়িত্ব আমার উপর ছেড়ে দিন। এলাকায় আর কোনও গুন্ডামি করতে দেব না, নিশ্চিন্ত থাকুন।” তিনি আরও মনে করিয়ে দেন যে, ২০২১ সালে ভোট-পরবর্তী হিংসার ঘটনায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশন যে ১৯ জন 'নটোরিয়াস ক্রিমিনাল' বা কুখ্যাত অপরাধীর তালিকা তৈরি করেছিল, তার মধ্যে এই জাহাঙ্গির খানের নামও ছিল।
উল্লেখ্য, মূল বিধানসভা নির্বাচনের সময়ে ফলতা কেন্দ্রটি রাজ্য রাজনীতির আলোয় চলে এসেছিল। উত্তরপ্রদেশ থেকে আসা দুঁদে পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয়পাল শর্মা জাহাঙ্গিরের বাড়ি গিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে আসার পর, জাহাঙ্গির প্রকাশ্যে দাবি করেছিলেন— ওই পুলিশ আধিকারিক যদি ‘সিংহম’ হন, তবে তিনিও ‘পুষ্পা’। সিনেমাটিক কায়দায় বলেছিলেন, “ঝুঁকেগা নেহি!” পরবর্তীতে নানা অনিয়মের অভিযোগে নির্বাচন কমিশন ফলতার ভোট বাতিল করে পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেয়। এর মাঝে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল ঘটে এবং তৃণমূলের পতন ঘটিয়ে ক্ষমতায় আসে বিজেপি। সরকার বদলের পর দিন দশেক অন্তরালে থাকার পর গত শুক্রবারই পুলিশের হস্তক্ষেপে বেলসিংহে নিজের বাড়ি ফেরেন জাহাঙ্গির। দলীয় কার্যালয় নতুন করে খুলে তিনি আবারও দাবি করেছেন, “ঝুঁকেগা নেহি”।
শনিবার ফলতার সভা থেকে নাম না করে ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানান, যাঁদের নির্দেশে বা উসকানিতে এতদিন ফলতার সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার হয়েছে, তাঁদের কাউকেই রেয়াত করা হবে না। প্রয়োজনে সবার কল রেকর্ডস এবং হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট খতিয়ে দেখে আইনি পদক্ষেপ করা হবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক সৌজন্যের বার্তা দিয়ে শুভেন্দু বলেন, “আমরা বলি না ৪ তারিখের পর ডিজে বাজবে। আমাদের রাজ্য সভাপতি বলেন অভিনন্দন যাত্রা করুন, তবে কোনো অনিচ্ছুকের গায়ে আবির দেবেন না। এটাই বিজেপির সংস্কৃতি।”
ফলতার সামগ্রিক উন্নয়নের স্বার্থে এদিন মঞ্চ থেকে একটি 'স্পেশাল ডেভেলপমেন্ট প্যাকেজ' বা বিশেষ উন্নয়নমূলক প্যাকেজেরও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজনৈতিক মহলের মতে, ২১ মে-র পুনর্নির্বাচনের আগে মুখ্যমন্ত্রীর এই আক্রমণাত্মক প্রচার ফলতার রাজনৈতিক পারদকে অনেকটাই বাড়িয়ে দিল।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি