
কলকাতা, ২১ মে (হি.স.): রাজ্যে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সরকারি কর্মচারীদের বাক্স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ তুললেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। বৃহস্পতিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি দাবি করেন, সরকারের সাম্প্রতিক নির্দেশিকা বা সার্কুলার সম্পূর্ণভাবে গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিপন্থী। তবে কংগ্রেসের জোরালো প্রতিবাদের জেরেই শেষ পর্যন্ত সরকার এই নির্দেশিকায় সামান্য সংশোধনী আনতে বাধ্য হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এদিনের সাংবাদিক বৈঠক থেকে সরকারি কর্মীদের আন্দোলন, হকার উচ্ছেদ, বেআইনি নির্মাণ ভাঙা থেকে শুরু করে ভোটার তালিকা সংশোধন— একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে রাজ্য সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি। বেআইনি নির্মাণ প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, যেকোনো ধরনের বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপকে কংগ্রেস সবসময় স্বাগত জানায়, তবে সেই পদক্ষেপ যেন ‘বেছে বেছে’ বা রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের ভিত্তিতে করা না হয়।
একই সাথে ভোটার তালিকা সংশোধন ও এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে শুভঙ্কর সরকার বলেন, “যদি ‘অবৈধ ভোটার’ তত্ত্বকে মান্যতা দেওয়া হয়, তবে সেই ভোটারদের ভোটেই নির্বাচিত হয়ে আসা বর্তমান জনপ্রতিনিধিদের বৈধতাও কিন্তু বড়সড় প্রশ্নের মুখে পড়ে।”
আসন্ন কুরবানি উৎসবকে কেন্দ্র করে রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়েও এদিন প্রশ্ন তোলেন এই কংগ্রেস নেতা। তাঁর অভিযোগ, একটি নির্দিষ্ট সমাজকে লক্ষ্য করেই ইচ্ছাকৃতভাবে বিতর্ক উসকে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে সরকারের এই সমস্ত নীতির বিরুদ্ধে সরব হয়ে তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেন যে, “বাক্স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার প্রশ্নে আগামী দিনেও রাজপথে কংগ্রেসের আন্দোলন জারি থাকবে।”
উল্লেখ্য, বিভিন্ন মহলের তীব্র চাপ এবং কংগ্রেসের প্রতিবাদের মুখে পড়ে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে পূর্বে জারি করা বিতর্কিত সরকারি নির্দেশিকাটি সামান্য সংশোধন বা বদল করা হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের খবর।
হিন্দুস্থান সমাচার / শুভদ্যুতি দত্ত