কাঠমান্ডুতে ছড়াল মারাত্মক বার্ড ফ্লু, উচ্চ সতর্কতার নির্দেশ প্রশাসনের
কাঠমান্ডু, ২৬ মে (হি. স.) : নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর একাধিক এলাকায় ভয়াবহ ‘হাইলি প্যাথোজেনিক এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা’ বা বার্ড ফ্লু সংক্রমণের হদিস মিলেছে। পরিস্থিতিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করে স্থানীয় প্রশাসন সাধারণ মানুষ ও পোলট্রি খামার মালিকদ
কাঠমান্ডুতে ছড়াল মারাত্মক বার্ড ফ্লু, উচ্চ সতর্কতার নির্দেশ প্রশাসনের


কাঠমান্ডু, ২৬ মে (হি. স.) : নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর একাধিক এলাকায় ভয়াবহ ‘হাইলি প্যাথোজেনিক এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা’ বা বার্ড ফ্লু সংক্রমণের হদিস মিলেছে। পরিস্থিতিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করে স্থানীয় প্রশাসন সাধারণ মানুষ ও পোলট্রি খামার মালিকদের উচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আবেদন জানিয়েছে। সংক্রমণ রুখতে ইতিমধ্যেই বিশেষ অভিযান শুরু করেছে পুরসভা প্রশাসন।

কাঠমান্ডু পুরসভার প্রধান প্রশাসনিক আধিকারিক রামনারায়ণ মৌলির বক্তব্য, সংক্রমিত এলাকাগুলিতে থাকা হাঁস, মুরগি, কোয়েল, লৌকাট-সহ বিভিন্ন পাখি, তাদের ডিম এবং খাদ্যশস্য সম্পূর্ণ ভাবে নষ্ট করা হচ্ছে। সংক্রমণ যাতে অন্যত্র না ছড়ায়, সে জন্য আক্রান্ত এলাকাগুলিতে দ্রুত গতিতে জীবাণুমুক্তকরণ ও নিরাপদ উপায়ে পাখি নিধনের কাজ চলছে।

প্রশাসনের আশঙ্কা, বার্ড ফ্লু পাখি থেকে মানুষের শরীরেও সংক্রমিত হতে পারে। সেই কারণেই একে ‘জুনোটিক’ বা উচ্চ ঝুঁকির সংক্রামক রোগ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে সাধারণ নাগরিক ও পোলট্রি খামার পরিচালকদের জন্য একাধিক নির্দেশিকা জারি করেছে পুরসভা।

নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, পোলট্রি খামারে অপ্রয়োজনীয় ব্যক্তি ও যানবাহনের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে হবে। জরুরি পরিস্থিতিতে প্রবেশের আগে অবশ্যই জীবাণুমুক্ত করার ব্যবস্থা রাখতে হবে। একই সঙ্গে এক খামারের কর্মীকে অন্য খামারে যাতায়াত না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ব্যবহৃত ডিমের কাগজের ট্রে বা ক্রেট পুনরায় ব্যবহার না করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

খামারগুলিতে জৈব সুরক্ষাব্যবস্থা আরও জোরদার করার উপর গুরুত্ব দিয়েছে প্রশাসন। খামারে প্রবেশের সময় আলাদা বুট ও অ্যাপ্রন ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। প্রতিদিন খামার চত্বর জীবাণুমুক্ত করা এবং কুকুর, বিড়াল কিংবা ইঁদুরের মতো প্রাণীদের প্রবেশ রুখতেও বলা হয়েছে।

ভোক্তাদের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে প্রশাসনের পরামর্শ, মাংস ও মাংসজাত খাদ্য সম্পূর্ণ ভাবে সেদ্ধ বা রান্না করে তবেই খেতে হবে। পাশাপাশি পাখিজাত পণ্য পরিবহণের সময় পশু চিকিৎসকের শংসাপত্র সঙ্গে রাখারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কোনও খামার বা বাড়িতে পালন করা পাখি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে বা অস্বাভাবিক হারে মারা গেলে সেগুলিকে খোলা জায়গায় না ফেলে নিরাপদ উপায়ে মাটিচাপা দেওয়ার আবেদন জানিয়েছে প্রশাসন। একই সঙ্গে দ্রুত স্থানীয় প্রশাসন, পশু পরিষেবা শাখা অথবা পশু চিকিৎসা দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

‘সতর্ক থাকুন, বার্ড ফ্লু থেকে নিজেকে, নিজের ব্যবসা ও সমাজকে রক্ষা করুন’— এই বার্তা দিয়ে পুরসভা জানিয়েছে, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি। আক্রান্ত এলাকাগুলিতে প্রযুক্তিগত দল মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন সর্বতো ভাবে প্রস্তুত বলেও দাবি করা হয়েছে।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande