
কাঠমান্ডু, ২৬ মে (হি.স.) : নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ মঙ্গলবার কাঠমান্ডুতে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলির আবাসিক ও অনাবাসিক রাষ্ট্রদূত এবং বিভিন্ন মিশনের প্রধানদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, কূটনৈতিক সহযোগিতা, বিনিয়োগ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদ কার্যালয়ে আয়োজিত এই বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শাহ বলেন, তাঁর সরকার নেপালের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেন, “নতুন সরকার মানেই অতীত থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া নয়। আমরা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে অঙ্গীকারবদ্ধ, যাতে নেপালের নীতিগত অবস্থান স্পষ্ট, স্থিতিশীল এবং পূর্বানুমানযোগ্য থাকে।”
তিনি আরও জানান, আন্তর্জাতিক বাজারকে কাজে লাগিয়ে নেপালের নাগরিকদের জন্য নতুন কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি করতে চায় সরকার। বৃহৎ বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সহজ করে টেকসই উন্নয়নের উপরও জোর দেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী শাহ বৈঠকে স্পষ্ট করে দেন যে নেপাল ভবিষ্যতেও ভারসাম্যপূর্ণ ও বাস্তবমুখী বিদেশনীতি অনুসরণ করবে। পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, সবুজ জ্বালানি, পর্যটন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার কথাও বলেন।
বিশ্বজুড়ে চলতে থাকা সংঘাত প্রসঙ্গে উদ্বেগ প্রকাশ করে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধ ও সামরিক সংঘাতের সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকেই। স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সামরিক মোকাবিলার বদলে সংলাপ, কূটনীতি এবং আন্তর্জাতিক আইনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার উপর তিনি জোর দেন।
বৈঠকে উপস্থিত ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য নেপালের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে সুশাসন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দিয়ে নতুন সরকার গঠন করায় প্রধানমন্ত্রী শাহকে অভিনন্দন জানান তাঁরা।
ইউরোপীয় প্রতিনিধিরা নেপালের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও জাতীয় অগ্রগতিতে সহযোগিতা বাড়ানোর আশ্বাসও দিয়েছেন। বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক সম্পর্ক আরও মজবুত করার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে।
এই প্রতিনিধিদলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলির মধ্যে অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, বুলগেরিয়া, সাইপ্রাস, চেক প্রজাতন্ত্র, ডেনমার্ক, এস্তোনিয়া, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, গ্রিস, ইতালি, লিথুয়ানিয়া, লুক্সেমবার্গ, নেদারল্যান্ডস, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, রোমানিয়া, স্লোভাকিয়া, স্লোভেনিয়া, স্পেন ও সুইডেনের রাষ্ট্রদূত ও উপ-রাষ্ট্রদূতরা উপস্থিত ছিলেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য