
আগরতলা, ৫ মে (হি.স.) : উত্তর ত্রিপুরার ধর্মনগরে বিজেপি-র যুব নেতা তথা পুর পরিষদের কাউন্সিলর রাহুল কিশোর রায়ের আকস্মিক ও রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে রাজনৈতিক মহলে। মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা গভীর শোক প্রকাশ করে ঘটনার নিরপেক্ষ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
জানা গেছে, বিজেপি যুব মোর্চার মণ্ডল সভাপতি এবং ধর্মনগর পুর পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রাহুল কিশোর রায়কে তাঁর নিজ বাড়ির শৌচাগার থেকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি ঘিরে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। বিশেষ করে, তাঁর গলায় দলীয় গেরুয়া স্কার্ফ বাঁধা অবস্থায় পাওয়া যাওয়ায় এই মৃত্যু আত্মহত্যা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ বা ষড়যন্ত্র রয়েছে—তা নিয়ে জল্পনা তীব্র হয়েছে।
ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা শোকবার্তায় বলেন, “এই অকাল মৃত্যু অত্যন্ত মর্মান্তিক। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আমার সমবেদনা রইল।” তিনি আশ্বাস দেন, মৃতের স্ত্রীর তোলা অভিযোগগুলি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হবে এবং সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতার সঙ্গে তদন্ত চালানো হবে। তিনি আরও জানান, সত্য উদঘাটিত হলে আইন অনুযায়ী কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরিবারের পক্ষ থেকে ওঠা অভিযোগ এই ঘটনাকে আরও জটিল করে তুলেছে। মৃতের স্ত্রীর দাবি, ধর্মনগর উপনির্বাচনের ফল ঘোষণার আগের দিন দলীয় একাংশের কিছু যুব নেতা তাঁর স্বামীর ওপর হামলার চেষ্টা করে। অভিযোগ, দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে কাজ করার সন্দেহে তাঁকে দু’দফায় আক্রমণের চেষ্টা হয়। এই ঘটনাগুলি শহরে বিজয় মিছিল উদযাপনের আবহেই ঘটে বলে জানা গেছে, যা দলের অন্দরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এদিকে, স্থানীয়দের মধ্যে শোকের পাশাপাশি ক্ষোভও বাড়ছে। গলায় দলীয় স্কার্ফ পরা অবস্থায় তরুণ নেতার শেষযাত্রার ছবি ইতিমধ্যেই জনমনে গভীর আবেগের সৃষ্টি করেছে এবং ঘটনার নেপথ্যে সম্ভাব্য রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।
পুলিশ ইতিমধ্যে অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে তদন্তকারী দল। পাশাপাশি, পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলে সূত্রের খবর।
বর্তমানে ধর্মনগর এলাকায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এই ঘটনা দ্রুতই ত্রিপুরার রাজনৈতিক পরিসরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে, যা দলীয় ঐক্য, কর্মীদের নিরাপত্তা এবং অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ