কৃষির উন্নতি ও কৃষকের সমৃদ্ধির পথেই গড়ে উঠবে উন্নত ভারত: শিবরাজ সিং চৌহান
পন্তনগর (উধম সিং নগর), ২৬ জুন (হি.স.) : উন্নত ভারতের স্বপ্ন তখনই বাস্তব হবে, যখন দেশের কৃষি আরও শক্তিশালী হবে এবং কৃষকের আর্থিক অবস্থার উন্নতি ঘটবে। সেই লক্ষ্য পূরণে কৃষি গবেষণা, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং বৈজ্ঞানিক চর্চাকেই সবচেয়ে বড় হাতিয়ার বলে ম
কৃষির উন্নতি ও কৃষকের সমৃদ্ধির পথেই গড়ে উঠবে উন্নত ভারত: শিবরাজ সিং চৌহান


পন্তনগর (উধম সিং নগর), ২৬ জুন (হি.স.) : উন্নত ভারতের স্বপ্ন তখনই বাস্তব হবে, যখন দেশের কৃষি আরও শক্তিশালী হবে এবং কৃষকের আর্থিক অবস্থার উন্নতি ঘটবে। সেই লক্ষ্য পূরণে কৃষি গবেষণা, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং বৈজ্ঞানিক চর্চাকেই সবচেয়ে বড় হাতিয়ার বলে মনে করেন কেন্দ্রীয় কৃষি ও কৃষক কল্যাণমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান। তাঁর মতে, জলবায়ু পরিবর্তন থেকে শুরু করে ভূগর্ভস্থ জলের স্তর হ্রাস, মাটির উর্বরতা কমে যাওয়া কিংবা রাসায়নিক সারের অতিরিক্ত ব্যবহার—ভারতীয় কৃষির সামনে যে সব চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তার মোকাবিলায় কৃষি বিজ্ঞানী ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলিকেই পথ দেখাতে হবে।

শুক্রবার পন্তনগরের গোবিন্দ বল্লভ পন্ত কৃষি ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে দু'দিনের প্রাক্তনী সম্মেলনের উদ্বোধন করেন কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান, উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি এবং রাজ্যের মন্ত্রী গণেশ যোশী। প্রদীপ জ্বালিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।

অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় কৃষি ও কৃষক কল্যাণমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান বলেন, গোবিন্দ বল্লভ পন্ত কৃষি ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, ভারতীয় কৃষির ইতিহাসে এক গৌরবময় অধ্যায়। এই প্রতিষ্ঠান দেশের কৃষিক্ষেত্রকে অসংখ্য বিজ্ঞানী, নীতিনির্ধারক, কৃষি উদ্যোক্তা এবং দক্ষ মানবসম্পদ উপহার দিয়েছে। গ্রামীণ অর্থনীতি ও কৃষির বিকাশে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান দেশের কাছে অনস্বীকার্য।

সবুজ বিপ্লবের স্মৃতিবিজড়িত পন্তনগরে এসে নিজেকে ধন্য মনে হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর কথায়, আজ দেশ প্রায় ৩৭৭ মিলিয়ন টন খাদ্যশস্য উৎপাদন করছে। ধান উৎপাদনে ভারত বিশ্বের শীর্ষে উঠে এসেছে। গম উৎপাদনেও দেশ উদ্বৃত্ত অবস্থানে রয়েছে। ভারতীয় গম ও বাসমতী চালের আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদাও ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। এই সাফল্যের কৃতিত্ব কৃষি বিজ্ঞানী এবং পন্তনগরের মতো প্রতিষ্ঠানের গবেষণা ও নিরলস কাজের ফল বলেই উল্লেখ করেন তিনি।

কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি ক্রমশ নেমে যাওয়া ভূগর্ভস্থ জলের স্তর, মাটির গুণগত মানের অবনতি এবং অতিরিক্ত রাসায়নিক সারের ব্যবহার ভবিষ্যতের কৃষিকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে গবেষণা, নতুন প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনই একমাত্র পথ। কৃষি ও কৃষকের উন্নয়ন ছাড়া উন্নত ভারতের লক্ষ্য পূরণ সম্ভব নয় বলেও তিনি জোর দিয়ে বলেন।

নিজের বক্তব্যে শিবরাজ সিং চৌহান আরও বলেন, তিনি পন্তনগরে কাউকে শেখাতে আসেননি, বরং শিখতেই এসেছেন। কৃষি বিশেষজ্ঞ, গবেষক এবং পড়ুয়াদের সঙ্গে মতবিনিময়কে তিনি ভারতীয় কৃষির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা বলেই ব্যাখ্যা করেন। পরিবেশ রক্ষার প্রসঙ্গ টেনে প্রত্যেককে অন্তত নিজের জন্মদিনে একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বানও জানান তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি বলেন, উন্নত উত্তরাখণ্ড গড়ে তুলতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কৃষি, গবেষণা, উদ্ভাবন, স্টার্টআপ এবং যুবসমাজকে পথ দেখানোর কাজে তাঁদের সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামির কথায়, পন্তনগর বিশ্ববিদ্যালয় দেশের সবুজ বিপ্লবের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। তবে উত্তরাখণ্ডের পাহাড়ি কৃষি আজ ছোট জমির আয়তন, বন্যপ্রাণীর আক্রমণে ফসলের ক্ষতি, গ্রামছাড়া, সীমিত বাজার এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো নানা সমস্যার মুখোমুখি। গবেষণা, উদ্ভাবন এবং সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমেই এই সমস্যাগুলির সমাধান সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

তিনি প্রাক্তনীদের কৃষক ও যুবকদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, জৈব ও প্রাকৃতিক চাষ, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াকরণ, মূল্য সংযোজন, ডিজিটাল বিপণন এবং কৃষিভিত্তিক উদ্যোগের ক্ষেত্রে তাঁদের অভিজ্ঞতা আগামী দিনের কৃষিকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। একই সঙ্গে তিনি জানান, স্টার্টআপ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং কৃষিভিত্তিক উদ্ভাবনে রাজ্য সরকার বিশেষ জোর দিচ্ছে।

রাজ্যের মন্ত্রী গণেশ যোশী জানান, রাজ্য গঠনের পর কৃষিজমির পরিমাণ কমলেও কৃষি উৎপাদন প্রায় তিন লক্ষ টন বেড়েছে। পাশাপাশি তিনি পন্তনগর বিশ্ববিদ্যালয়কে হেরিটেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা দেওয়ার দাবিও জানান।

অনুষ্ঠানের আগে কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে অবস্থিত জাদুঘর এবং স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের স্টল ঘুরে দেখেন। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। পরে তাঁদের সঙ্গে ধানের চারা রোপণেও অংশ নেন দুই নেতা। বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে বৃক্ষরোপণ করে পরিবেশ সংরক্ষণের বার্তাও দেন শিবরাজ সিং চৌহান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাংসদ অজয় ভাট, বিধায়ক শিব অরোরা, ত্রিলোক সিং চিমা, বংশীধর ভগত, রাষ্ট্রমন্ত্রীর মর্যাদাপ্রাপ্ত অনিল কাপুর ডাব্বু, হুকম সিং কুনওয়ার, রণজিৎ সিং নামধারী, সচিব ড. এস.এন. পাণ্ডে, জেলাশাসক নীতিন সিং ভদৌরিয়া, পুলিশ সুপার অজয় গণপতি, রেজিস্ট্রার দীপা বিনয়-সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু প্রাক্তনী ও প্রশাসনিক আধিকারিক।

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande