
নয়াদিল্লি, ২৬ জুন (হি.স.) : কাচ্চাতিভু দ্বীপ শ্রীলঙ্কার হাতে তুলে দেওয়ার ১৯৭৪ সালের সিদ্ধান্তকে সামনে রেখে ফের কংগ্রেসকে আক্রমণ করল বিজেপি। দলের মুখপাত্র ও সাংসদ সুধাংশু ত্রিবেদীর অভিযোগ, তৎকালীন কংগ্রেস সরকার দেশের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে আপস করেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তাঁর কথায়, কাচ্চাতিভু চুক্তি ভারতের বিদেশনীতির এক ‘ঐতিহাসিক ভুল’।
শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠকে সুধাংশু ত্রিবেদী বলেন, ১৯৭৪ সালের ২৬ জুন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর নেতৃত্বাধীন সরকার তামিলনাড়ুর উপকূল সংলগ্ন পাক প্রণালীতে অবস্থিত কাচ্চাতিভু দ্বীপ শ্রীলঙ্কাকে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়। এর জেরে তামিলনাড়ুর মৎস্যজীবীদের দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলে দাবি তাঁর। দ্বীপে অবস্থিত সেন্ট অ্যান্টনি শ্রাইনে যাওয়ার সময় ভারতীয় মৎস্যজীবীরা নৌকায় জাতীয় পতাকা বহন করলে অনেক ক্ষেত্রেই অনুমতি পান না বলেও অভিযোগ করেন বিজেপি সাংসদ।
ত্রিবেদীর বক্তব্য, ২৬ জুন কংগ্রেসের ‘আত্মসমর্পণের রাজনীতি’র আর একটি কালো দিন। দেশভাগ, পাকিস্তানের দখলে পিওকে চলে যাওয়া, ১৯৬২ সালে আকসাই চিন হারানো এবং পরে কাচ্চাতিভু শ্রীলঙ্কাকে দেওয়া—এই ঘটনাগুলিকে তিনি কংগ্রেসের জাতীয় স্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্তের ধারাবাহিক উদাহরণ বলে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, নতুন প্রজন্মের এই ইতিহাস জানা প্রয়োজন।
এদিন কেরলমের কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ সরকারকেও নিশানা করেন বিজেপি নেতা। তাঁর অভিযোগ, কম অ্যালকোহলযুক্ত মদের উপর আবগারি শুল্ক ২৫১ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১২১ শতাংশ করা হয়েছে। এতে কার্যত মদের উপর কর অর্ধেকেরও বেশি কমেছে বলে দাবি তাঁর।
প্রসঙ্গত, ১৯৭৪ সালে ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে স্বাক্ষরিত কাচ্চাতিভু চুক্তির মাধ্যমে পাক প্রণালীতে অবস্থিত প্রায় ২৮৫ একর আয়তনের জনবসতিহীন দ্বীপটি শ্রীলঙ্কার হাতে তুলে দেওয়া হয়। ২৮ জুন থেকে দ্বীপটি আনুষ্ঠানিকভাবে শ্রীলঙ্কার নিয়ন্ত্রণে আসে। এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে। বিশেষ করে তামিলনাড়ুর মৎস্যজীবীদের স্বার্থের প্রশ্নে বিষয়টি বারবার সামনে এসেছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য