
গুয়াহাটি, ২৬ জুন (হি.স.) : বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২-টা ০২ মিনিট ১৩ সেকেন্ডে কামাখ্যাদেবীর ‘নিবৃত্তি’ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সমাপ্ত হয়েছে মহাঅম্বুবাচি মহাযোগের। নিবৃত্তির পর আজ শুক্ৰবার ভোররাত থেকে মায়ের স্নানপর্ব সম্পন্ন হয়। স্নানপর্ব শেষে ভোরের দিকে শুরু হয় নিত্যপূজা। করেছেন। প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা চলে নিত্যপূজা। দেবীর স্নান ও নিত্যপূজার পর সকাল প্রায় সাড়ে ছয়টার দিকে শক্তিপীঠের মূল কপাট লক্ষ লক্ষ ভক্ত-সাধুসন্তের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। মন্দিরের মূল কপাট খোলার পর সারিবদ্ধভাবে মায়ের পুজো দিয়েছেন লক্ষাধিক ভক্তকুল। প্ৰসঙ্গত, গত ২২ জুন রাত ৯টা ৮ মিনিট ৪২ সেকেন্ডে মায়ের ‘প্রবৃত্তি’ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কামাখ্যা মন্দিরের গর্ভগৃহের প্রধান দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।
এদিকে অসমের মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মা অম্বুবাচির অন্তর্নিহিত তাৎপর্যের কিঞ্চিৎ বৰ্ণনা দিয়ে মেলায় আগত দেশ-বিদেশের তীর্থযাত্রী, সাধু-সন্ন্যাসী এবং পর্যটকদের অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
আজ শুক্ৰবার নিজের অফিশিাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী ড. শর্মা বলেন, ‘মা কামাখ্যার অম্বুবাচির অন্তর্নিহিত তাৎপর্যের তুলনা পৃথিবীর আর কোথাও নেই। এটি অসমের সভ্যতার ঐতিহ্যে নারীশক্তির কেন্দ্রীয় গুরুত্বের এক অনন্য প্রতীক।’ তিনি জানান, এ বছরের বার্ষিক এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানে আট লক্ষের বেশি ভক্ত অংশগ্রহণ করেছেন।
উল্লেখ্য, অম্বুবাচি মেলা অসমের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় সমাবেশ। প্রতি বছর দেশ-বিদেশের লক্ষ লক্ষ তীর্থযাত্রী, সাধু-সন্ন্যাসী এবং পর্যটকেরা এই মেলায় অংশ নিতে আসেন। সরকারি পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে অম্বুবাচি মেলায় ৪২ জন বিদেশি নাগরিক সহ মোট ৭,৭২,০১৯ জন অংশগ্রহণ করেছিলেন। এর আগে ২০২৪ সালে এই মেলায় ২০ জন বিদেশি ভক্ত সহ মোট ৭,৪৬,০৬৬ জনের উপস্থিতি নথিভুক্ত হয়েছিল।
অম্বুবাচি মহাযোগের দিন-কয়েক আগে থেকে কামাখ্যাধামে আগমন ঘটতে থাকে ভক্ত-তীর্থযাত্রী, সাধু-সন্ন্যাসী, বাউলদের। জপতপ, তন্ত্ৰ-মন্ত্ৰ, সাধনামার্গের অন্যতম কেন্দ্ৰস্থল নীলাচল পাহাড়ে লক্ষ লক্ষ ভক্ত-সাধু মা কামাখ্যার বিশ্বাস, আধ্যাত্মিকতায় বিলীন হয়ে পড়েন। এই কয়দিন নীলাচল পাহাড়ের পাদদেশ থেকে চূড়া পৰ্যন্ত অভূতপূর্ব জনস্রোতে ভেসেছে। উৎকট, কাঠফাঁটা গরম, মাঝেমধ্যে এক পশলা বৃষ্টি উপেক্ষা করে তীর্থযাত্রীদের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে গম গম করে সতীর ৫১ পীঠের কামাখ্যাধাম। এরই মধ্যে কয়েকজন ভক্ত সংজ্ঞাহীনও হয়েছেন। তবে তাৎক্ষণিক চিকিৎসায় তাঁরা সেরে উঠেছেন, জানান কামাখ্যা মন্দিরের প্রধান দলই কবীন্দ্রপ্রসাদ শর্মা।
কবীন্দ্রপ্রসাদ শর্মা জানান, এবারও গতবারের মতো লক্ষাধিক প্রায় আট লক্ষ ভক্ত-সাধুর অম্বুবাচি পর্বে যোগদান করেছেন। তিনি বলেন, অম্বুবাচির সময় অনেক ভক্ত কেবল মন্দির দর্শন করে চলে যান। খুব কম ভক্ত মায়ের দর্শন ও গৰ্ভগৃহে তাঁকে স্পর্শ করতে পারেন। কারণ দর্শন ও স্পর্শ করতে সময় লাগে অনেক বেশি। তাই খুব কমসংখ্যক ভক্তের কপালে এই ভাগ্য জুটে। বহু ভক্ত মন্দির থেকে চলে যাওয়ার সময় কান্নায় ভেঙে পড়েছেন।
আষাঢ় মাসের মধ্যভাগে মৃগশিরা নক্ষত্রের শেষ পাদ এবং আর্দ্রা নক্ষত্রের শুরুতে দেবী কামাখ্যা রজঃস্বলা হন। যার জন্য চার দিনের জন্য মন্দিরের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ সময় দেবী দৰ্শনের নিয়ম নেই। নিবৃত্তির পর যথারীতি পূজাপাঠ করে পঞ্চমদিন সকালে মায়ের মন্দিরের দরজা খুলে দেওয়া হয়, বলেন প্রধান দলই কবীন্দ্রপ্রসাদ শর্মা।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস