
আগরতলা, ২৬ জুন (হি.স.) : ত্রিপুরায় কৃষি ও কৃষকদের সার্বিক উন্নয়নে আধুনিক প্রযুক্তির পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-এর ব্যবহারিক প্রয়োগের উপর জোর দিলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা। তিনি জানান, কৃষিকে আরও আধুনিক ও লাভজনক করে তুলতে রাজ্য সরকার একটি এগ্রিকালচার রোড ম্যাপ তৈরি করছে, যা ভবিষ্যতের কৃষি উন্নয়নের দিকনির্দেশক হিসেবে কাজ করবে।
শুক্রবার পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার বামুটিয়া ব্লকের বেড়িমুড়া উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের হলঘরে আয়োজিত 'ক্ষেত বাঁচাও অভিযান' কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে কৃষি দফতরের আধিকারিক, জনপ্রতিনিধি এবং এলাকার বিপুল সংখ্যক কৃষক উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের ১২ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে সারা দেশে এক মাসব্যাপী 'ক্ষেত বাঁচাও অভিযান' কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। রাজ্যেও ১ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত বিভিন্ন জেলায় এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। তারই অংশ হিসেবে শুক্রবারের এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান রাজ্য সরকার কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। কৃষিকে আরও টেকসই ও উৎপাদনশীল করতে মাটি পরীক্ষা, প্রাকৃতিক উপায়ে চাষাবাদ, জৈব কৃষি এবং শস্যের বৈচিত্র্য বৃদ্ধির উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষকদের বিজ্ঞানভিত্তিক কৃষিকাজে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, কৃষকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ২০১৯ সালে প্রধানমন্ত্রী কৃষক সম্মান নিধি প্রকল্প চালু করেন। এই প্রকল্পের আওতায় নথিভুক্ত কৃষকদের বছরে তিনটি কিস্তিতে মোট ৬ হাজার টাকা সরাসরি তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রদান করা হয়। এখন পর্যন্ত দেশের প্রায় ১১ কোটি কৃষক এই প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন এবং মোট প্রায় ৪ লক্ষ ২৮ হাজার কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, রাজ্যের কৃষি ব্যবস্থাকে প্রযুক্তিনির্ভর করে তুলতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-এর ব্যবহার শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এআই-এর মাধ্যমে আবহাওয়ার পূর্বাভাস, রোগ-পোকা শনাক্তকরণ, উৎপাদন বৃদ্ধি, সঠিক সময়ে সেচ ও সার প্রয়োগ এবং বাজার বিশ্লেষণের মতো বিষয়গুলিকে আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে। এর ফলে কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমবে এবং আয় বৃদ্ধি পাবে।
তিনি বলেন, কৃষকদের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি সমন্বিত এগ্রিকালচার রোড ম্যাপ প্রস্তুত করা হচ্ছে। এই রোড ম্যাপের মাধ্যমে আগামী দিনের কৃষিনীতি, প্রযুক্তির ব্যবহার, বিপণন ব্যবস্থা এবং কৃষকদের আয় বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।
অনুষ্ঠানে নির্বাচিত কৃষকদের হাতে জমির স্বাস্থ্য পরীক্ষার 'সয়েল হেলথ কার্ড', উন্নত প্রযুক্তিতে উৎপাদিত আম ও লেবুর চারা এবং আধুনিক কৃষিকাজের জন্য মিনি পাওয়ার টিলার তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি কৃষকদের সংবর্ধনা জানিয়ে তাঁদের কৃষি উৎপাদনে আরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকারের বিভিন্ন কৃষি উন্নয়নমূলক প্রকল্প, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কৃষকদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে ত্রিপুরার কৃষি খাত আরও সমৃদ্ধ হবে এবং কৃষকদের জীবনযাত্রার মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ