
খড়িবাড়ি, ২৬ জুন, (হি. স.): মহরমের শোভাযাত্রায় ডিজে বাজানো এবং ধারালো অস্ত্র প্রদর্শনের ওপর প্রশাসনের কড়া নিষেধাজ্ঞা ছিল। কিন্তু সেই নির্দেশকে অমান্য করে ধারালো অস্ত্রের মহড়া চলল খড়িবাড়িতে। শুক্রবার মহরমের তাজিয়া শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের একাংশকে খোলাখুলি ধারালো অস্ত্র উঁচিয়ে মিছিল করতে দেখা যায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে খড়িবাড়ি বাজার ও সংলগ্ন এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে, প্রশ্ন উঠেছে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মহরমের আগে আয়োজিত শান্তি বৈঠকে পুলিশ ও প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্তারা স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে শোভাযাত্রায় কোনো অবস্থাতেই ধারালো অস্ত্র বহন করা যাবে না এবং ডিজে বাজানো নিষিদ্ধ থাকবে। শুক্রবার খড়িবাড়ি ব্লকের ‘খড়িবাড়ি বাজার মহরম কমিটি’ এবং ‘প্রেতাজোত মহরম কমিটি’র তরফ থেকে ঐতিহ্যবাহী তাজিয়া শোভাযাত্রা বের করা হয়। ইমাম হাসান ও হোসেনের প্রতীকী সমাধি নিয়ে আয়োজিত এই মিছিলে লাঠি খেলা ও আগুনের খেলার মতো প্রথাগত প্রদর্শনের পাশাপাশি একদল যুবককে তরোয়াল, ছুরিসহ বিভিন্ন ধারালো অস্ত্র উঁচিয়ে উল্লাস করতে দেখা যায়।
অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এদিন সকাল থেকেই এলাকায় বিশাল পুলিশবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও প্রশাসনের ও পুলিশের নজরদারি এড়িয়ে কীভাবে প্রকাশ্যেই এমন অস্ত্র প্রদর্শন চলল, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এই আইন অমান্যের ঘটনা প্রসঙ্গে খড়িবাড়ি থানার পুলিশ জানিয়েছে, সরকারি নির্দেশিকা লঙ্ঘন করে অস্ত্র নিয়ে মিছিলে ঘোরার অভিযোগে ইতিমধ্যেই একজনকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া শোভাযাত্রার বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখে বাকি অভিযুক্তদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে। আইনভঙ্গকারী প্রত্যেকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে পুলিশি সূত্রে স্পষ্ট জানানো হয়েছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি