
আগরতলা, ২৬ জুন (হি.স.) : রাজধানী আগরতলায় রামনগর ৪ নম্বর রোড এলাকার একটি ফ্ল্যাটে ঘটে যাওয়া রহস্যজনক বিস্ফোরণের ঘটনায় গুরুতর আহত গণিতের শিক্ষক শুভজিৎ চৌধুরীর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সকাল প্রায় ৮টা নাগাদ আগরতলায় জিবিপি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুতে পরিবার, সহকর্মী ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এদিকে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহার নির্দেশে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
জানা গেছে, রামনগরের ওই ফ্ল্যাটে পরিচালিত একটি অ্যাবাকাস কোচিং সেন্টারে গণিতের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন শুভজিৎ চৌধুরী। তাঁর স্ত্রীও একই প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে কোচিং সেন্টারে একাই ছিলেন শুভজিৎ। সেই সময় হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে গোটা ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট। মুহূর্তেই আগুনে দগ্ধ হন তিনি।
খবর পেয়ে দমকল বাহিনীর কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে গুরুতর আহত অবস্থায় শুভজিৎকে উদ্ধার করে জিবিপি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা শুরু করেন। চিকিৎসকদের মতে, তাঁর শরীরের প্রায় ৯০ শতাংশ অংশ আগুনে ঝলসে গিয়েছিল। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর শুক্রবার সকালে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
জিবিপি হাসপাতালে নিহতের স্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, বৃহস্পতিবার কোচিং সেন্টারে গিয়ে ঠাকুরের ছবিতে ধূপ জ্বালাচ্ছিলেন তাঁর স্বামী। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুভজিৎ তাঁকে জানান, ওই সময় অ্যাপার্টমেন্টের লাইন গ্যাসের পাইপ থেকে গ্যাস লিক হচ্ছিল। তাঁর দাবি, কোচিং সেন্টারের ভিতরে কোনও গ্যাস সিলিন্ডার ছিল না। ঠিক কী কারণে এত বড় বিস্ফোরণ ঘটল, তা তাঁদের কাছেও সম্পূর্ণ অজানা।
অন্যদিকে, ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা বিস্ফোরণের কারণ খুঁজে বের করতে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের নির্দেশ দেন। তিনি জানান, কী কারণে এই বিস্ফোরণ ঘটেছে, তা বিস্তারিত তদন্ত করে দ্রুত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী তখনও শুভজিৎ চৌধুরীর মৃত্যুর খবর পাননি। তিনি বলেছিলেন, আহতের শরীরের প্রায় ৯০ শতাংশ অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দিল্লি যাওয়ার আগে হাসপাতালে গিয়ে তাঁকে দেখে আসার ইচ্ছা ছিল তাঁর। পাশাপাশি পরিবারের অনুরোধে আহতকে কলকাতার পিজি হাসপাতালে স্থানান্তরের বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে জানান তিনি।
এদিকে শুভজিৎ চৌধুরীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই রামনগর ৪ নম্বর রোড এলাকায় নেমে আসে শোকের আবহ। স্থানীয় বাসিন্দারা এই বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, বিস্ফোরণের উৎস, গ্যাস লিকের অভিযোগ এবং অন্যান্য সম্ভাব্য কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ