
আগরতলা, ২৬ জুন (হি.স.) : রামনগর ৪ নম্বর রোডের একটি আবাসনের ফ্ল্যাটে ঘটে যাওয়া রহস্যময় বিস্ফোরণে যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় প্রাথমিকভাবে টিএনজিসিএল (ত্রিপুরা ন্যাচারাল গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড)-এর গাফিলতির ইঙ্গিত দিলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তদন্তের রিপোর্টের ওপর নির্ভর করবে বলেও তিনি স্পষ্ট করেছেন। একই সঙ্গে রাজ্যের বিভিন্ন আবাসিক ফ্ল্যাটে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে অচিরেই একটি অ্যাডভাইজারি বা অনুরূপ কমিটি গঠনের ঘোষণা দেন তিনি।
শুক্রবার দুপুরে রামনগরের দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন আগরতলা পুর নিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার। মুখ্যমন্ত্রী ক্ষতিগ্রস্ত অ্যাপার্টমেন্টের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার বিস্তারিত খোঁজখবর নেন এবং তাঁদের অভিজ্ঞতা শোনেন।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার দুপুরে রামনগর ৪ নম্বর রোডের একটি অ্যাপার্টমেন্টে অবস্থিত অ্যাবাকাস কোচিং সেন্টারে আচমকা বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনায় গুরুতর আহত হন অ্যাবাকাসের গণিত শিক্ষক শুভজিৎ চৌধুরী। তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় জিবিপি হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও শুক্রবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোক ও আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে ওই অ্যাপার্টমেন্টে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সংযোগের কাজ চলছিল। অন্যান্য ফ্ল্যাটে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকলেও সংশ্লিষ্ট ফ্ল্যাটে গ্যাস সরবরাহ চালু ছিল। তাঁর দাবি, শুভজিৎ চৌধুরী ধূপকাঠি জ্বালানোর চেষ্টা করতেই বিস্ফোরণ ঘটে। এই তথ্য প্রাথমিকভাবে সামনে এসেছে বলে তিনি জানান।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে এই ঘটনার পেছনে টিএনজিসিএল কর্তৃপক্ষের গাফিলতি থাকতে পারে। তবে বিষয়টি তদন্তাধীন। তদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট হাতে এলে প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে রাজ্যের আবাসিক ফ্ল্যাটগুলিতে গ্যাস সংযোগ ও অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনার জন্য একটি অ্যাডভাইজারি বা অনুরূপ কমিটি গঠনের কথাও জানান তিনি।
নিহত শুভজিৎ চৌধুরীর পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রশাসনকে ইতিমধ্যেই পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হবে। তিনি জানান, মহকুমা শাসক ও জেলাশাসককে প্রাথমিকভাবে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের জন্য বলা হবে এবং পরবর্তী সময়ে রাজ্য সরকারও পরিবারের পাশে থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শহরের আবাসিক বহুতলগুলিতে পাইপলাইনের গ্যাস সংযোগ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তদন্তের রিপোর্টের দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে প্রশাসন ও সাধারণ মানুষ।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ