পরিবেশ দূষণমুক্ত রাখতে সবাইকে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে : বনমন্ত্রী অনিমেষ
আগরতলা, ৩ জুন (হি.স.) : পরিবেশকে সুস্থ, সুন্দর ও দূষণমুক্ত রাখতে সমাজের প্রতিটি মানুষকে নিজ নিজ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করার আহ্বান জানিয়েছেন ত্রিপুরার বনমন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মা। বুধবার আগরতলায় প্রজ্ঞা ভবনে সেগুন বাগান ব্যবস্থাপনা বিষয়ক এক প্রশিক্
বনমন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মা


আগরতলা, ৩ জুন (হি.স.) : পরিবেশকে সুস্থ, সুন্দর ও দূষণমুক্ত রাখতে সমাজের প্রতিটি মানুষকে নিজ নিজ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করার আহ্বান জানিয়েছেন ত্রিপুরার বনমন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মা। বুধবার আগরতলায় প্রজ্ঞা ভবনে সেগুন বাগান ব্যবস্থাপনা বিষয়ক এক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করে তিনি এ কথা বলেন।

রাজ্য বন দফতর এবং কোয়েম্বাটোরের ইনস্টিটিউট অব ফরেস্ট জেনেটিক্স অ্যান্ড ব্রিডিং-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সেগুন চাষ ও বাগান ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত বাগিচা চাষিরা অংশগ্রহণ করেন। কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ছিল সেগুন বাগানের আধুনিক ব্যবস্থাপনা, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং টেকসই বনায়ন সম্পর্কে চাষিদের প্রশিক্ষণ প্রদান।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বনমন্ত্রী বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ পৃথিবী গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই। তিনি বলেন, পরিবেশকে সুস্থ ও শান্ত রাখতে হলে প্রত্যেককে নিজের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। শুধু সরকারের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়, সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে পরিবেশ দূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিশ্বব্যাপী উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বৃক্ষরোপণ এবং বন সংরক্ষণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। মানুষের বেঁচে থাকার জন্য বিশুদ্ধ অক্সিজেন অপরিহার্য এবং সেই অক্সিজেনের প্রধান উৎস হচ্ছে গাছপালা। তাই পরিবেশ রক্ষায় ব্যক্তিগত ও সামাজিক উদ্যোগে আরও বেশি করে গাছ লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সেগুনকে একটি মূল্যবান অর্থকরী বৃক্ষ হিসেবে উল্লেখ করে বনমন্ত্রী বলেন, সঠিক পরিকল্পনা ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সেগুন চাষ করলে তা যেমন পরিবেশ সংরক্ষণে সহায়ক হবে, তেমনি চাষিদের আর্থিকভাবে লাভবান করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এজন্য সেগুন বাগানের সঠিক পরিচর্যা ও ব্যবস্থাপনার বিষয়ে প্রশিক্ষণের গুরুত্ব অপরিসীম বলে তিনি মন্তব্য করেন।

প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে বন দফতরের আধিকারিক, বন বিশেষজ্ঞ ও প্রশিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা সেগুন বাগানের রোপণ পদ্ধতি, পরিচর্যা, রোগবালাই দমন, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং বাজারজাতকরণ সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে অংশগ্রহণকারী চাষিদের বিস্তারিত ধারণা প্রদান করেন।

উল্লেখ্য, এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে রাজ্যের বিভিন্ন জেলার সেগুন বাগানের সঙ্গে যুক্ত বহু বাগিচা চাষি অংশগ্রহণ করেন। বন দফতরের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তাঁরা জানান, এ ধরনের প্রশিক্ষণ ভবিষ্যতে সেগুন চাষের উন্নয়ন এবং উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande