
জম্মু, ১৫ জুলাই (হি.স.): 'পার্সোনালিটিজ অ্যান্ড লেজেন্ডস অফ জম্মু অ্যান্ড কাশ্মীর' বইকে ঘিরে বিতর্কের জেরে সংশ্লিষ্ট লেখক ও প্রকাশকদের কালো তালিকাভুক্ত (ব্ল্যাকলিস্ট) করে নিষিদ্ধ করেছে জম্মু বিশ্ববিদ্যালয়। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগকে লাইব্রেরি ও ডিজিটাল সংগ্রহ থেকে ওই লেখক ও প্রকাশকদের সমস্ত বই ও প্রকাশনা সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ৪ জুলাই জম্মু ও কাশ্মীরের স্কুল শিক্ষা দফতরের জারি করা সরকারি নির্দেশ অনুসারেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ওই নির্দেশে সংশ্লিষ্ট লেখক ও প্রকাশকদের প্রকাশিত সমস্ত বই ও শিক্ষাসামগ্রী কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জুড়ে সরিয়ে ফেলার কথা বলা হয়েছিল।
বিতর্কিত বইটির বিরুদ্ধে অভিযোগ, এতে বিচ্ছিন্নতাবাদী ও দেশবিরোধী ব্যক্তিদের মহিমান্বিত করা হয়েছে। নিষিদ্ধ হওয়া লেখকদের মধ্যে রয়েছেন হিলাল আহমেদ, সন্তোষ মীনা ও ড. সুশান্ত গিরি। ব্ল্যাকলিস্ট করা হয়েছে জম্মুর ওবেরয় বুক সার্ভিস এবং দিল্লির অনুরাগ প্রকাশনকেও। ভবিষ্যতে তাঁদের কোনও বই বা মুদ্রিত সামগ্রী কেনা যাবে না বলেও বিশ্ববিদ্যালয় নির্দেশ দিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে আপত্তিকর, দেশবিরোধী বা বিচ্ছিন্নতাবাদকে উৎসাহিত করে এমন কোনও বই, জার্নাল বা প্রকাশনা যাতে লাইব্রেরিতে স্থান না পায়, তার জন্য বিভাগীয় উপদেষ্টা কমিটির মাধ্যমে কঠোর স্ক্রিনিং ব্যবস্থা চালু করা হবে। পাশাপাশি বই ও শিক্ষা-সামগ্রী কেনার জন্য একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর (এসওপি) তৈরির উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, বিতর্কিত বইটি নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স (সিআইডি) শাখা। ইতিমধ্যেই জম্মু ও দিল্লি থেকে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযোগ, বইটিতে সন্ত্রাসবাদী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর প্রশংসা করা হয়েছে।
এই ঘটনার পর জম্মু ও কাশ্মীরের উপরাজ্যপাল মনোজ সিনহা স্কুল শিক্ষা দফতরের আট আধিকারিককে সাময়িক বরখাস্ত করেছেন এবং এক চুক্তিভিত্তিক কর্মীকে অপসারণ করেছেন। পাশাপাশি বিতর্কিত দুটি বইয়ের বিষয়বস্তু নিয়ে তদন্তের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিজেপি, কংগ্রেস-সহ একাধিক রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন আপত্তি জানিয়েছে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য