
কলকাতা, ১৮ জুলাই (হি.স.): রাজ্যে ডেয়ারি সমবায় আন্দোলনকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ করতে চলেছে কেন্দ্র সরকার। আগামী ১৯ জুলাই, রবিবার কলকাতার নিউ টাউন কনভেনশন সেন্টারে 'আমূল বেঙ্গল ডেয়ারি' প্রকল্পের অধীনে বিশ্বের বৃহত্তম দই উৎপাদন প্ল্যান্টের (সংযুক্তি কেন্দ্র) ভূমিপুজো ও শিলান্যাস করবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায় মন্ত্রী অমিত শাহ। প্রায় ৭০০ কোটি টাকার এই মেগা প্রকল্পের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের দুগ্ধচাষিদের আয় বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড়সড় জোয়ার আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই হাইপ্রোফাইল অনুষ্ঠানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সহ সমবায় ক্ষেত্রের বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব উপস্থিত থাকবেন।
হাওড়া ফুড পার্কে গড়ে উঠতে চলা এই অত্যাধুনিক ডেয়ারি প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ হলে, এখান থেকে প্রতিদিন প্রায় ৩০ লক্ষ লিটার দুধ প্রক্রিয়াকরণ (প্রসেসিং) করা সম্ভব হবে। এই প্ল্যান্টটিতে দৈনিক ১০ লক্ষ কেজি দই ও অন্যান্য কালচার্ড ডেয়ারি পণ্য উৎপাদিত হবে। এ ছাড়াও প্রতিদিন ১০ লক্ষ লিটার প্যাকেটজাত দুধ, ২ লক্ষ লিটার ইউএইচটি দুধ, ১ লক্ষ লিটার আইসক্রিম, ২০ মেট্রিক টন পনির, ১০ মেট্রিক টন ঘি, ১০ মেট্রিক টন মিষ্টি এবং প্রায় আড়াই লক্ষ ফ্লেভার্ড মিল্কের প্যাক তৈরির বিপুল ক্ষমতা থাকবে এই প্ল্যান্টের।
এই বিপুল ক্ষমতার সমবায় প্রকল্পের ফলে পশ্চিমবঙ্গের ১ লক্ষ ২৫ হাজারেরও বেশি দুগ্ধ উৎপাদক কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন, যার মধ্যে ৩০ হাজারেরও বেশি মহিলা দুগ্ধচাষি রয়েছেন। বর্তমানে আমূলের সমবায় নেটওয়ার্কের মাধ্যমে রাজ্য থেকে প্রতিদিন প্রায় ৯ লক্ষ লিটার দুধ সংগ্রহ করা হচ্ছে। নতুন এই পরিকাঠামো গড়ে উঠলে আধুনিক প্রক্রিয়াকরণ ও বিপণনের সুবিধা আরও বাড়বে, যার ফলে চাষিরা তাঁদের উৎপাদিত দুধের সঠিক ও লাভজনক মূল্য পাবেন।
এ দিনের অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ রাজ্যে 'শ্বেত বিপ্লব ২.০' -এর অধীনে নবগঠিত ২০০টিরও বেশি ডেয়ারি সমবায় সমিতির মধ্যে একটিকে আনুষ্ঠানিক শংসাপত্র প্রদান করবেন। পাশাপাশি, নতুন নিবন্ধিত ১১টি বহুমুখী গ্রামীণ সমবায় সমিতির প্রতিনিধিদের হাতেও শংসাপত্র তুলে দেবেন তিনি।
একই সাথে সমবায় সমিতির রেজিস্ট্রার অফিসের সম্পূর্ণ কম্পিউটারাইজেশনের অঙ্গ হিসেবে তৈরি ‘e-RCS’ পোর্টালটিরও আনুষ্ঠানিক সূচনা করবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এই অনলাইন পোর্টালটি আসার ফলে সমবায় সমিতিগুলির নিবন্ধন এবং অন্যান্য প্রশাসনিক কাজকর্ম সম্পূর্ণ ডিজিটাল, স্বচ্ছ ও অনেক সহজ হয়ে যাবে।
কৃষি পরিকাঠামো উন্নয়নে আরও একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে, বিশ্বের বৃহত্তম শস্য মজুতকরণ যোজনার অধীনে পশ্চিমবঙ্গের ১০টি জেলায় প্রায় ৫.৯৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হতে চলা ১৪টি আধুনিক গুদামের শিলান্যাস করবেন অমিত শাহ। এই গুদামগুলির মোট ধারণক্ষমতা হবে ১,৪০০ মেট্রিক টন। এর পাশাপাশি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং কোচবিহারে ৭৩.৬১ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ইতিমধ্যেই নির্মিত ১০০ মেট্রিক টন ক্ষমতার দুটি গুদামঘরের উদ্বোধনও করবেন তিনি।
এ দিনের অনুষ্ঠানে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। রাজ্যে গতিশীলতা ও পরিবহণ (মোবিলিটি) পরিষেবার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে 'ভারত ট্যাক্সি' এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্যপ্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক্স বিভাগের মধ্যে একটি মউ স্বাক্ষরিত ও আদান-প্রদান করা হবে।
কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই বহুমুখী উদ্যোগগুলির ফলে পশ্চিমবঙ্গে ডেয়ারি সমবায়, গ্রামীণ শস্য মজুতকরণ, ডিজিটাল সমবায় প্রশাসন এবং পরিবহণ ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন হবে। সামগ্রিকভাবে যা গ্রামীণ অর্থনীতিকে স্বনির্ভর করতে এবং রাজ্যে শ্বেত বিপ্লবের এক নতুন অধ্যায় সূচনা করতে বড় ভূমিকা নেবে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি