
- মুখ্যমন্ত্ৰীর নেতৃত্বে রাজধানীর কৃত্রিম বন্যা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে চলছে বিজ্ঞানভিত্তিক ১২টি বড় প্রকল্পের কাজ
গুয়াহাটি, ১৮ জুলাই (হি.স.) : গুয়াহাটি মহানগরীতে প্রতি বর্ষায় সৃষ্ট কৃত্রিম বন্যা এবং জলাবদ্ধতার জন্য বিগত কংগ্রেস সরকারের অপরিকল্পিত নগরায়ন, জলাভূমি ধ্বংস এবং অবৈধ দখলকে দায়ী করেছে অসম প্রদেশ বিজেপি। আজ শনিবার এক বিবৃতিতে দলের প্রদেশ মুখপাত্র মানস শরণিয়া অভিযোগ করেন, কংগ্রেস সরকারের আমলে পরিকল্পিত নগর-উন্নয়নের পরিবর্তে বিশৃঙ্খলভাবে শহরের বিস্তার ঘটায় আজও গুয়াহাটিবাসী কৃত্রিম বন্যার দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
মানস শরণিয়া বলেন, একসময় অনিল নগর, নবীন নগর, শক্তিগড়, কাছারি বস্তি ও পূর্ব শরণিয়া সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় জলাভূমি, নিচু জমি ও কৃষিজমি ছিল, যা প্রাকৃতিকভাবে বৃষ্টির জল ধারণ ও নিষ্কাশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই জলাধারগুলি ভরাট ও দখল হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টির জল বের হওয়ার স্বাভাবিক পথ সংকুচিত হয়েছে। তাঁর দাবি, এ সব অবৈধ দখলের বড় অংশই কংগ্রেসের শাসনামলে হয়েছে। তখন সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কোনও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি, বলেন তিনি।
শরণিয়া আরও বলেন, গুয়াহাটির কৃত্রিম জলাবদ্ধতার আর একটি বড় কারণ হলো মেঘালয়ের পাহাড়ি এলাকা, বিশেষ করে ‘ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি মেঘালয়’ (ইউএসটিএম)-এর দিক থেকে নেমে আসা বিপুল বৃষ্টির জল। এই জল খুব অল্প সময়ের মধ্যেই শিলসাঁকো এলাকায় পৌঁছে যায়, কিন্তু শহর থেকে সেই জল বের হতে দীর্ঘ সময় লাগে। ফলে বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।
বিজেপি মুখপাত্রের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মার নেতৃত্বে বর্তমান রাজ্য সরকার কৃত্রিম বন্যা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে পরিকল্পিত ও বিজ্ঞানসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ইতিমধ্যে একাধিক এলাকায় এর ইতিবাচক ফলও দেখা যাচ্ছে। গত বছর সামান্য বৃষ্টিতেই আমবাড়ি, বি. বরুয়া কলেজের সামনে, এক্সেল কেয়ার হাসপাতাল, বালুমুখ ও রুক্মিণীগাঁও এলাকায় তীব্র জলাবদ্ধতা তৈরি হলেও, নিকাশি ব্যবস্থার উন্নয়ন, পলি অপসারণ, পাম্পিং ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ এবং নতুন স্টর্ম ওয়াটার ড্রেন নির্মাণের ফলে এ বছর পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
শরণিয়া জানান, ইউএসটিএম-এর দিক থেকে নেমে আসা বৃষ্টির জল দ্রুত নিষ্কাশনের জন্য জুরিপাড়া থেকে শিলসাঁকো পর্যন্ত একটি প্রশস্ত নতুন নালা নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একইভাবে জোড়াবাটের জলাবদ্ধতা দূর করতে ওই এলাকার জল ডিগারু নদীতে প্রবাহিত করার জন্যও বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এর কাজ শুরু হবে শীঘ্রই।
তিনি আরও বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে গুয়াহাটির জলাবদ্ধতা নিরসনে একাধিক বৃহৎ প্রকল্প বর্তমানে বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, রুক্মিণীগাঁও ক্লক টাওয়ার থেকে লাস্টগেট হয়ে সুপার মার্কেট পর্যন্ত বিএন শইকিয়া ড্রেন নির্মাণ (প্রায় ৭০ শতাংশ সম্পন্ন), পিবকো পয়েন্ট থেকে দিশপুর পর্যন্ত স্টর্ম ওয়াটার ড্রেন, হাতিগাঁও থেকে সিজুবাড়ি পর্যন্ত ড্রেন নির্মাণ, ভরলু নদীর পলি অপসারণ, ডি-ওয়াটারিং পাম্পের সংখ্যা বৃদ্ধি, মালিগাঁও-বড়িপাড়া সংযোগকারী স্টর্ম ওয়াটার ড্রেন, রূপনগর থেকে শ্রীমন্তপুর পর্যন্ত নতুন ড্রেন, সাতগাঁও থেকে পাথর কোয়ারি পর্যন্ত ড্রেন, লালমাটি, গোটানগর, এক্সেল কেয়ার হাসপাতাল ও জোড়াবাটে নালা-কালভার্ট পরিষ্কার, বশিষ্ঠ চারিআলি থেকে জওহরনগর পর্যন্ত স্টর্ম ওয়াটার ড্রেন, এক্সেল কেয়ার-বরাগাঁও থেকে দীপর বিল পর্যন্ত নতুন ড্রেন এবং জোড়াবাট থেকে ডিগারু নদী পর্যন্ত নতুন নালা নির্মাণ।
মানস শরণিয়ার বক্তব্য, এই প্রকল্পগুলি ধাপে ধাপে সম্পূর্ণ হলে গুয়াহাটির অধিকাংশ জলাবদ্ধ এলাকা কৃত্রিম বন্যার সমস্যা থেকে মুক্তি পাবে। তাঁর দাবি, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য কেবল সাময়িক সমাধান নয়, আধুনিক, বিজ্ঞানভিত্তিক ও পরিকল্পিত পরিকাঠামো গড়ে তুলে গুয়াহাটিকে একটি সুপরিকল্পিত ও বন্যা-সহনশীল মহানগর হিসেবে গড়ে তোলা। বহু দশকের পুরনো এই সমস্যার রাতারাতি সমাধান সম্ভব নয়, তবে সুপরিকল্পিত উদ্যোগ ও দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছার মাধ্যমে স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে সরকার নিরন্তর কাজ করে চলেছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস