আসানসোলে তৈরি হবে পশ্চিমবঙ্গের প্রথম কেন্দ্রীয় ইএসআই মেডিক্যাল কলেজ - ১০০টি এমবিবিএস আসন সহ স্বাস্থ্য পরিষেবায় জুড়বে নতুন মাত্রা
আসানসোল, ১৮ জুলাই (হি.স.): পশ্চিমবঙ্গের শিল্পাঞ্চল আসানসোলের জন্য স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা শিক্ষার ক্ষেত্রে এক অভূতপূর্ব সাফল্য এল। রাজ্য সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে আসানসোলের কর্মচারী রাজ্য বিমা (ইএসআই) হাসপাতালটিকে কর্মচারী রাজ্য বিমা নিগম (ইএসআইসি)-এর হাতে
ইএসআই মেডিক্যাল কলেজ


আসানসোল, ১৮ জুলাই (হি.স.): পশ্চিমবঙ্গের শিল্পাঞ্চল আসানসোলের জন্য স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা শিক্ষার ক্ষেত্রে এক অভূতপূর্ব সাফল্য এল। রাজ্য সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে আসানসোলের কর্মচারী রাজ্য বিমা (ইএসআই) হাসপাতালটিকে কর্মচারী রাজ্য বিমা নিগম (ইএসআইসি)-এর হাতে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। এর সঙ্গেই পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্র সরকার পরিচালিত প্রথম ইএসআই মেডিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠার পথ প্রশস্ত হল।

প্রাতিষ্ঠানিক সূত্রে জানা গেছে, আসানসোল ইএসআই হাসপাতাল চত্বরে ১০০টি এমবিবিএস আসন বিশিষ্ট অত্যাধুনিক মেডিক্যাল কলেজ স্থাপন করা হবে। ভবিষ্যতে এখানে স্নাতকোত্তর (পিজি) পাঠ্যক্রমও চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই প্রকল্পের ফলে চিকিৎসা শিক্ষার প্রসারের পাশাপাশি এই অঞ্চলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরিষেবা আরও সহজলভ্য হবে।

এই বিষয়ে কলকাতায় আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে কর্মচারী রাজ্য বিমা নিগম (ইএসআইসি)-এর আঞ্চলিক অধিকর্তা অমরনাথ তিওয়ারি এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের শ্রম দফতরের বিশেষ সচিব অভিজিৎ বোস আনুষ্ঠানিক চুক্তিপত্রে (উইলোআই বা এমওইউ) স্বাক্ষর করেন। এই অনুষ্ঠানে বিমা কমিশনার প্রণয় সিনহা সহ ইএসআইসি-এর একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিক উপস্থিত ছিলেন।

ইএসআই হাসপাতালের আঞ্চলিক উপ-অধিকর্তা ডঃ অতনু ভদ্র জানান, হাসপাতালটিকে মেডিক্যাল কলেজে রূপান্তর করার জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া শেষে রাজ্য সরকার হাসপাতালটি কেন্দ্র সরকারের হাতে তুলে দিয়েছে। তিনি আরও জানান, এই মেডিক্যাল কলেজের পরিচালনার দায়িত্ব ডঃ জয়া ঘোষের হাতে সঁপে দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি চালু হওয়ার পর এটি কর্মচারী রাজ্য বিমা কেন্দ্রীয় হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজ হিসেবে পরিচিত হবে।

ডঃ অতনু ভদ্র বলেন, এই মেডিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠার ফলে ইএসআই বিমাভোক্তা এবং তাঁদের ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলি আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরিষেবা এবং উন্নত চিকিৎসার আরও ভালো সুযোগ পাবেন। এর পাশাপাশি হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরিষেবার পরিধি ও মানও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

আসানসোল দক্ষিণের বিধায়ক তথা রাজ্যের পুর নগর উন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এই চুক্তি কেবল আসানসোলই নয়, বরং সমগ্র দক্ষিণবঙ্গে স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং তৃতীয় স্তরের চিকিৎসা শিক্ষার পরিকাঠামো শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। তিনি বলেন, মেডিক্যাল কলেজ তৈরি হলে স্থানীয় পড়ুয়ারা নিজেদের এলাকাতেই উচ্চমানের চিকিৎসা শিক্ষা লাভের সুযোগ পাবে।

ইএসআইসি-এর বরিষ্ঠ আধিকারিকদের মতে, হাসপাতালের সম্পূর্ণ হস্তান্তর পর্বটি ধাপে ধাপে সম্পন্ন করা হবে। রোগী এবং কর্মীদের স্বার্থের কথা মাথায় রেখে কেন্দ্র সরকারের কাছ থেকে প্রায় তিন মাসের একটি অন্তর্বর্তীকালীন সময় (ট্রানজিশন পিরিয়ড) চাওয়া হয়েছে। এই সময়কালে হাসপাতালে কর্মরত ২০০-র বেশি চুক্তিভিত্তিক চিকিৎসক ও অন্যান্য কর্মীদের প্রয়োজন অনুযায়ী দুর্গাপুর সহ অন্যান্য ইএসআই হাসপাতালে পুনর্বাসিত করা হবে, যাতে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা পরিষেবা ব্যাহত না হয়।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande