
মার্ঘেরিটা (অসম), ১৮ জুলাই (হি.স.) : অদম্য ইচ্ছাশক্তি, কঠোর পরিশ্রম এবং অধ্যবসায় থাকলে দারিদ্র্য কখনও সাফল্যের পথে বাধা হতে পারে না, সেই সত্যই আবারও প্রমাণ করলেন অসমের তিনসুকিয়া জেলার অন্তর্গত মার্ঘেরিটার এক কৃষকপুত্র। জাতীয় স্তরের মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষা নিট-ইউজি ২০২৬-এ ৬১০ নম্বর পেয়ে সর্বভারতীয় মেধাতালিকায় ৭,৩২০-তম স্থান অর্জন করেছেন বিষ্ণু লিম্বু ওরফে বিশু।
তিনসুকিয়া জেলার ৮৩ নম্বর মার্ঘেরিটা বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত কেটেটং ২ নম্বর নাকাং পাঠার এলাকার বাসিন্দা বিশু লিম্বু এক প্রান্তিক কৃষক পরিবারের সন্তান। তাঁর বাবা ফাউদ লিম্বু পেশায় কৃষক, তাঁর মায়ের নাম ওম কুমারী লিম্বু। চরম আর্থিক অনটনের মধ্যেও পড়াশোনার প্রতি অদম্য নিষ্ঠা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি এই উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছেন।
বিশুর এই কৃতিত্বে শুধু তাঁর পরিবারই নয়, গোটা মার্ঘেরিটা অঞ্চল গর্বিত। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেছেন, সীমিত আর্থিক সামর্থ্য সত্ত্বেও তাঁর এই সাফল্য সমাজের অসংখ্য মেধাবী ও সুবিধাবঞ্চিত ছাত্রছাত্রীর কাছে এক অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
লিম্বুদের প্রতিবেশীরা বলেন, বিশু লিম্বুর সাফল্য প্রমাণ করেছে, দৃঢ় সংকল্প, অধ্যবসায় এবং আত্মবিশ্বাস থাকলে অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতা কোনও স্বপ্নকেই থামিয়ে রাখতে পারে না। তাঁর এই কৃতিত্বকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, অনেকেই তাঁকে নতুন প্রজন্মের জন্য আদর্শ হিসেবে অভিহিত করছেন।
ফলাফল প্রকাশের পর বিশু লিম্বু তাঁর এই সাফল্যের কৃতিত্ব বাবা-মা এবং শিক্ষাজীবনে যাঁরা তাঁর পাশে ছিলেন, তাঁদের সকলকে উৎসর্গ করেছেন। ভবিষ্যতে একজন দক্ষ চিকিৎসক হয়ে সমাজের মানুষের সেবা করাই তাঁর জীবনের লক্ষ্য, বলে বিশু।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস