২৭ নম্বর জাতীয় সড়কে অতিরিক্ত পণ্যবোঝাই ট্রাকের দুর্ঘটনায় বাড়ছে জনদুর্ভোগ, ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি
হাফলং (অসম), ১৮ জুলাই (হি.স.) : ডিমা হাসাও জেলার জাটিঙ্গা-হারাঙ্গাজাও অংশে ২৭ নম্বর জাতীয় সড়কে বারবার যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। পাহাড়ি সড়কে অতিরিক্ত পণ্যসামগ্রী বোঝাই ভারী লরি দুর্ঘটনার কবলে প
এনএইচ-২৭ অতিরিক্ত পণ্যবোঝাই ট্রাক


হাফলং (অসম), ১৮ জুলাই (হি.স.) : ডিমা হাসাও জেলার জাটিঙ্গা-হারাঙ্গাজাও অংশে ২৭ নম্বর জাতীয় সড়কে বারবার যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। পাহাড়ি সড়কে অতিরিক্ত পণ্যসামগ্রী বোঝাই ভারী লরি দুর্ঘটনার কবলে পড়ায় প্রায়ই ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এতে হাজার হাজার যাত্রী, রোগী, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও পর্যটককে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।

সম্প্রতি একটি কয়লা-বোঝাই লরি উল্টে যাওয়ার ফলে প্রায় ১০ ঘণ্টা সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত ছিল। শত শত যানবাহন রাস্তার দুই প্রান্তে আটকে পড়ে। দুর্ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করেছে, জাটিঙ্গা-হারাঙ্গাজাও অংশটি বর্তমানে ২৭ নম্বর জাতীয় সড়কের অন্যতম দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা হয়ে উঠেছে। দীর্ঘ যানজটে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন সাধারণ মানুষ। অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া রোগীরাও যানজটে আটকে পড়ছেন, যা জরুরি চিকিৎসা পরিষেবাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। পাশাপাশি অফিসগামী, শিক্ষার্থী, পর্যটক ও ব্যবসায়ীদেরও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে, অনেক ক্ষেত্রেই খাদ্য ও পানীয় জলেরও অভাব দেখা দিচ্ছে।

এদিকে, ২৭ নম্বর জাতীয় সড়কে চলমান নির্মাণের কাজও বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। নির্মাণ সংস্থাগুলির ভারী যন্ত্রপাতি ও নির্মাণসামগ্রী নিয়ে দুর্ঘটনাজনিত যানজটের কারণে নির্ধারিত সময়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারছে না। ফলে প্রকল্পের কাজ বিলম্বিত হওয়ার পাশাপাশি ব্যয়ও বাড়ছে।

ওয়াকিবহাল মহলের বক্তব্য, দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ পাহাড়ি ও আঁকাবাঁকা সড়কে অতিরিক্ত বোঝাই পণ্যবাহী লরির অবাধ চলাচল। অতিরিক্ত ওজনের দরুন গাড়ির ভারসাম্য নষ্ট হয়, ব্রেকিং ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে এবং চরাইউতরাই ও তীক্ষ্ণ বাঁকে নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকি বেড়ে যায়।

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের কাছে অবিলম্বে এ ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাঁরা বলেন, অতিরিক্ত পণ্যসামগ্রী বোঝাই লরির বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি, দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় ভারী ক্রেন সহ দ্রুত উদ্ধারকারী দল মোতায়েন, জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ, জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও পরিবহণ বিভাগের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং ভারী যানবাহনের চলাচলের জন্য নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করা অত্যন্ত জরুরি। এছাড়া, সিসিটিভি নজরদারি, নিয়মিত হাইওয়ে পেট্রোলিং এবং ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারী চালক ও পরিবহণ সংস্থার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও উঠেছে।

উল্লেখ্য, ২৭ নম্বর জাতীয় সড়কটি ডিমা হাসাও সহ বরাক উপত্যকার তিন জেলা, ত্রিপুরা, মিজোরাম এবং মণিপুরের একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগের মাধ্যম। তাই এই জাতীয় সড়কে নির্বিঘ্ন যান চলাচল নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব দফতরের সমন্বিত উদ্যোগ ও কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এখন সময়ের দাবি।

হিন্দুস্থান সমাচার / বিশাখা দেব




 

 rajesh pande