এসএসসি প্যানেল বাতিলের জের, চাকরি হারানোর অবসাদে পুরুলিয়ায় যোগ্য শিক্ষিকার মৃত্যু
পুরুলিয়া, ১৮ জুলাই (হি.স.): পুরুলিয়ায় স্কুল সার্ভিস কমিশনের (এসএসসি) চাকরি বাতিলের কোপে পড়া ৩৪ বছর বয়সী এক শিক্ষিকার মর্মান্তিক মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শনিবার সকালে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় ইপ্সিতা দাস মহাপাত্র নামে ওই শিক্
এসএসসি প্যানেল বাতিলের জের, চাকরি হারানোর অবসাদে পুরুলিয়ায় যোগ্য শিক্ষিকার মৃত্যু


পুরুলিয়া, ১৮ জুলাই (হি.স.): পুরুলিয়ায় স্কুল সার্ভিস কমিশনের (এসএসসি) চাকরি বাতিলের কোপে পড়া ৩৪ বছর বয়সী এক শিক্ষিকার মর্মান্তিক মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শনিবার সকালে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় ইপ্সিতা দাস মহাপাত্র নামে ওই শিক্ষিকার। প্রাথমিক তদন্ত ও হাসপাতাল সূত্রে অনুমান, অতিরিক্ত মাত্রায় ঘুমের ওষুধ খাওয়ার কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। পুরুলিয়া সদর থানার পুলিশ এই ঘটনায় একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৬ সালের এসএসসি প্যানেল তালিকায় নাম ছিল ইপ্সিতার। তিনি পুরুলিয়া-২ ব্লকের একটি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণী পর্যন্ত বাংলা বিষয়ে শিক্ষকতা করতেন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর নিয়োগ বাতিল হওয়ার পর তাঁর চাকরিও সংকটের মুখে পড়ে। ২০২৫ সালের এসএলএসটি পরীক্ষাতেও তিনি মেধা তালিকায় স্থান পাননি। এর ফলে সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী তাঁর চাকরির মেয়াদ আগামী ৩১ আগস্ট, ২০২৬ পর্যন্ত নির্ধারিত হয়েছিল।

পরিবারের দাবি, ইপ্সিতা কোনো অনৈতিক উপায়ে বা টাকা দিয়ে চাকরি পাননি, তিনি একজন সম্পূর্ণ যোগ্য প্রার্থী ছিলেন। কিন্তু চাকরি হারানোর আশঙ্কা এবং ভবিষ্যতের চরম অনিশ্চয়তার কারণে তিনি দীর্ঘ দিন ধরে তীব্র মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। সেই অবসাদ কাটাতে তিনি নিয়মিত ঘুমের ওষুধও খেতেন। গত বৃহস্পতিবার বাড়ি থেকে তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে পুরুলিয়া গভর্নমেন্ট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানে শনিবার সকালে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

এই মর্মান্তিক ঘটনার পর ‘যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকা অধিকার মঞ্চ’-এর পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি জারি করে এই মৃত্যুর জন্য সরাসরি এসএসসি কর্তৃপক্ষকে দায়ী করা হয়েছে। সংগঠনের দাবি, ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিলের সিদ্ধান্তের পর এটি আরও একটি অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। চাকরির অনিশ্চয়তা এবং মানসিক চাপের কারণে বহু যোগ্য শিক্ষক-शिक्षिका বর্তমানে তীব্র অবসাদের সম্মুখীন হচ্ছেন।

মঞ্চের পুরুলিয়া কোর কমিটির সদস্য শুভাষীস পান বলেন, আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত চাকরির মেয়াদ বেঁধে দেওয়া হলেও, যোগ্য শিক্ষকদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট আশ্বাস মেলেনি। চাকরি পুনর্বহালের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তাও পূরণ করা হয়নি।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২৬ হাজার নিয়োগ বাতিলের মামলায় স্কুল সার্ভিস কমিশন চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে। এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী আগস্ট মাসে হওয়ার কথা রয়েছে। তার আগেই এই করুণ পরিণতিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এলাকায়।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande