
কলকাতা, ১৮ জুলাই (হি.স.): দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ডায়মন্ড হারবারের আমতলায় তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যালয় এর সামনে তৈরি একটি শেড শনিবার সকালে ভেঙে দিল প্রশাসন। বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতিতে বুলডোজার চালিয়ে নীল রঙের ওই শেডটি সরিয়ে দেওয়া হয়। এই অভিযানের সময় গোটা এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করা হয়েছিল।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ওই কার্যালয় সংলগ্ন পাঁচতলা ভবনটি অনুমোদিত বিল্ডিং প্ল্যান ছাড়াই নির্মাণ করা হয়েছে বলে একটি অভিযোগ জমা পড়েছিল। অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলিকে নোটিশ পাঠিয়ে নির্ধারিত তারিখে শুনানির জন্য ডাকা হয়। আধিকারিকদের দাবি, নির্দিষ্ট সময়ে কোনও পক্ষই নিজেদের বক্তব্য পেশ করতে উপস্থিত হয়নি, যার জেরে নিয়ম অনুযায়ী এই পদক্ষেপ করা হয়েছে।
শনিবার সকালে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী পুরো চত্বরটি ঘিরে ফেলে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক (বিডিও), ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরের আধিকারিক (বিএলআরও) এবং দমকল বিভাগের আধিকারিকেরা। প্রশাসনের নজরদারিতে বুলডোজারের সাহায্যে কার্যালয়ের সামনের শেডটি ভেঙে ফেলা হয়। আধিকারিকরা জানিয়েছেন, এই বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপও আইনি প্রক্রিয়া মেনেই নেওয়া হবে, তবে পরবর্তী পর্যায় নিয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক তথ্য দেওয়া হয়নি।
সূত্র মারফত জানা গেছে, দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসন গত ৩০ জুন অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়, মতি মল্লিক এবং সুশান্ত মণ্ডলের নামে নোটিশ জারি করেছিল। নোটিশে তাঁদের ১৫ জুলাই দুপুর দুটোয় সংশ্লিষ্ট দফতরের সামনে নথিপত্র ও প্রমাণাদি সহ উপস্থিত হয়ে নিজেদের বক্তব্য জানাতে বলা হয়েছিল। জানা গেছে, সুশান্ত মণ্ডলের অভিযোগের ভিত্তিতেই এই নোটিশ জারি করা হয়। প্রশাসনের অভিযোগ, নোটিশ দেওয়া সত্ত্বেও কার্যালয়ের কোনও প্রতিনিধি শুনানিতে উপস্থিত হননি, যার পরই এই ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৪ মে কলকাতার ইএম বাইপাস সংলগ্ন ময়দানপুকুর এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের আরও একটি দলীয় কার্যালয়ে বুলডোজার চালিয়েছিল প্রশাসন। সেই সময় স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছিলেন যে, ২০১১ সালের পর সেখানে প্রথমে একটি ক্লাব তৈরি করা হয় এবং পরে সেটিকে পার্টি অফিসে রূপান্তর করা হয়। স্থানীয়রা ওই চত্বরে জবরদখল ও অন্যান্য বেআইনি কার্যকলাপ চালানোরও অভিযোগ তুলেছিলেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি