
আরামবাগ , ১৮ জুলাই (হি.স.): শনিবার আরামবাগ মহকুমাজুড়ে বিপত্তারিণী পূজা, লোকউৎসবে মেতেছেন ভক্তরা
আজ শ্রাবণ মাসের শুভ তিথিতে আরামবাগ মহকুমার বিভিন্ন প্রান্তে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও ভক্তিভরে পালিত হচ্ছে বাংলার অন্যতম জনপ্রিয় লোকউৎসব বিপত্তারিণী পূজা। সকাল থেকেই বিভিন্ন মন্দির ও বাড়িতে পূজার আয়োজন করা হয়। ভক্তদের উপচে পড়া ভিড়, পুজো-অর্চনা, ব্রত পালন এবং মঙ্গল কামনার মধ্য দিয়ে উৎসবের আবহে মেতে ওঠে গোটা মহকুমা।
আরামবাগ মহকুমার বিশিষ্ট পণ্ডিত ও প্রাক্তন শিক্ষক বামাপদ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, লোকবিশ্বাস অনুযায়ী এই পূজার সুচনা ষোরশ শতাব্দীতে । তাঁর বক্তব্য, এক প্রাচীন কাহিনি অনুসারে এক রাজা দীর্ঘদিন নিঃসন্তান ছিলেন। পরে রানি সন্তানসম্ভবা হলে তিনি এক দাসীর কাছে গোমাংস খাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। বিষয়টি রাজার কানে পৌঁছালে রানি বড় বিপদের মুখে পড়েন। সেই সংকটময় মুহূর্তে তিনি মা দুর্গার আরাধনা করেন। ভক্তের ডাকে সাড়া দিয়ে মা বিপত্তারিণী রূপে আবির্ভূত হয়ে অলৌকিকভাবে সেই গোমাংসকে সুস্বাদু ফলে রূপান্তরিত করেন। এরপর থেকেই বাংলায় বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার আশায় শ্রাবণ মাসে বিপত্তারিণী পূজার প্রচলন হয়েছে বলে জনশ্রুতি রয়েছে।
বামাপদ বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, মানুষের বিশ্বাস—জীবনের যে কোনও সংকট, দুঃসময় বা বিপদে মা বিপত্তারিণীর শরণাপন্ন হলে তিনি ভক্তদের রক্ষা করেন। সেই বিশ্বাস ও আস্থাকেই কেন্দ্র করে আজও বাংলার ঘরে ঘরে নিষ্ঠার সঙ্গে পালিত হয় এই পূজা।
দিনভর আরামবাগ মহকুমার বিভিন্ন এলাকায় পূজা, ব্রত, প্রসাদ বিতরণ এবং ভক্তদের সমাগমে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। নারীদের পাশাপাশি সব বয়সের মানুষের উপস্থিতিতে বিপত্তারিণী পূজা আজও বাংলার লোকঐতিহ্য ও ধর্মীয় সংস্কৃতির এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে নিজের ঐতিহ্য বজায় রেখেছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / SANTOSH SANTRA