নাট্যমঞ্চে নেমে এলো শোকের ছায়া, প্রয়াত বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব মানিক লাল দত্ত
আগরতলা, ১৮ জুলাই (হি.স.) : ত্রিপুরার নাট্য আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা, বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব, শিক্ষক ও বাচিকশিল্পী মানিক লাল দত্ত আর নেই। শনিবার সকালে রাজধানী আগরতলায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছ
মানিক লাল দত্তকে শেষশ্রদ্ধা


আগরতলা, ১৮ জুলাই (হি.স.) : ত্রিপুরার নাট্য আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা, বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব, শিক্ষক ও বাচিকশিল্পী মানিক লাল দত্ত আর নেই। শনিবার সকালে রাজধানী আগরতলায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। তাঁর প্রয়াণে রাজ্যের নাট্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। শিল্পী, সাহিত্যিক, নাট্যকর্মী, বুদ্ধিজীবী এবং প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে শোকের আবহ সৃষ্টি হয়েছে।

মানিক লাল দত্ত দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ত্রিপুরার নাট্যচর্চা ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত ছিলেন। নাট্যকার হিসেবে যেমন তিনি পরিচিত ছিলেন, তেমনি একজন আদর্শ শিক্ষক ও দক্ষ বাচিকশিল্পী হিসেবেও সকলের শ্রদ্ধা অর্জন করেছিলেন। নাটকের প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসা এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণ তাঁকে রাজ্যের নাট্যজগতের এক অনন্য ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছিল। তিনি রূপম নাট্যগোষ্ঠীর আজীবন সদস্য ছিলেন এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গেও সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।

শনিবার দুপুরে তাঁর মরদেহ রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবন প্রাঙ্গণে নিয়ে আসা হলে সেখানে শেষ শ্রদ্ধা জানান অসংখ্য নাট্যকর্মী, শিল্পী, সাহিত্যিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষক, ছাত্রছাত্রী এবং শুভানুধ্যায়ীরা। পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও নীরবতা পালনের মাধ্যমে তাঁকে শেষ বিদায় জানানো হয়।

প্রয়াত নাট্যব্যক্তিত্বের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব স্বপন নন্দী বলেন, মানিক লাল দত্ত শুধুমাত্র একজন নাট্যকার ছিলেন না, তিনি ছিলেন নাট্য আন্দোলনের প্রাণপুরুষদের একজন। নাটকই ছিল তাঁর জীবন। রাজ্যের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।

রাজ্য সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের সাংস্কৃতিক কমিটির ভাইস-চেয়ারম্যান তথা বিজেপি-র রাজ্য মুখপাত্র সুব্রত চক্রবর্তী গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, মানিক লাল দত্ত আমার ছাত্রজীবনের বাংলা শিক্ষক ছিলেন। একজন শিক্ষক হিসেবে যেমন তিনি অনন্য ছিলেন, তেমনি নাট্যব্যক্তিত্ব ও বাচিকশিল্পী হিসেবেও অসামান্য অবদান রেখে গেছেন। তাঁর মৃত্যু রাজ্যের সংস্কৃতি জগতের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।শেষ শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সংবাদপত্র সম্পাদক সমীরণ রায়-সহ রাজ্যের বহু সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও বিশিষ্ট নাগরিক।

মানিক লাল দত্তের প্রয়াণে ত্রিপুরার নাট্যজগৎ এক অভিভাবকসুলভ ব্যক্তিত্বকে হারাল। তাঁর সৃষ্টিশীল কর্ম, নাট্যচিন্তা এবং সাংস্কৃতিক অবদান আগামী প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। তাঁর মৃত্যুতে রাজ্যের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে যে শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে, তা দীর্ঘদিন অনুভূত হবে।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande